আজকাল ওয়েবডেস্ক: 'সরকারি চাকরি মানেই সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ'। একসময়ের অতিপরিচিত এবং প্রচলিত ধারণাই বর্তমান দুনিয়ায় বদলে গিয়েছে। ব্যাঙ্কে ৮০ লক্ষ টাকা সঞ্চয় এবং কোনও ঋণের বোঝা নেই—এ যেন সাধারণ মানুষের কাছে স্বপ্নের মতো জীবন। কিন্তু যখন সেই চাকরির জন্যই সপ্তাহান্তের কোনও ছুটি মেলেনা দিনের পর দিন। অসুস্থতায় ছুটিতে থাকলেও অফিসে ডেকে পাঠানো হয়। কিংবা দৈনিক ১০ ঘণ্টা কাজ করেও শুনতে হয় গঞ্জনা। তখন সেই চাকরিই অশান্তি ডেকে না।

 

সম্প্রতি রেডিট সমাজমাধ্যমে এমনই কঠিন পরিস্থিতির কথা ভাগ করে নিয়েছেন এক কর্মরত মহিলা। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় কর্মরত ৩১ বছর বয়সি ওই মহিলা সেখানে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তাঁর পোস্টে লেখা—"৩১ বছরের নারী, সরকারি চাকরি, ৮০ লাখের সঞ্চয়—কিন্তু শুধু শান্তির জন্য চাকরি ছাড়তে চাই। এই ভাবনা কি বোকামি নাকি বাস্তবসম্মত?" তাঁর এই পোস্ট বর্তমানে নেটপাড়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছে।

 

গত সাত বছরে ওই সংস্থায় চাকরি করেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি নতুন একটি বিভাগে বদলি হওয়ার পর থেকেই তাঁর জীবন নরক হয়ে উঠেছে, বলে জানান তিনি। তাঁকে ছুটির দিন হোক বা মাঝরাত- ক্রমাগত কাজ করতে হচ্ছে। অসুস্থতার দিনেও কোনও ছাড় মিলছে না।

 

তিনি তাঁর পোস্টে লিখেছেন, "আমি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছি। আগামী ২৫-৩০ বছর এই পরিবেশে কাটানোর কথা ভাবলেই আমার গায়ে কাঁটা দেয়। আমি আর এভাবে বাঁচতে পারছি না।"

 

তিনি আরও জানান, তাঁর জীবনযাত্রা অত্যন্ত সাধারণ। তাঁর উপর কোনও ঋণের বোঝা নেই। চাকরি ছেড়ে মেট্রো শহর ছেড়ে তিনি একটি ছোট শহরে ফিরে যেতে চান। সঞ্চিত অর্থের সুদ, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং শেয়ার ট্রেডিং করে একটি সাধারণ জীবনযাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

 

তাঁর পোস্ট ভাইরাল হতেই নেটনাগরিকেরা তাঁর প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। তবে নেটিজেনদের একাংশ তাঁকে দ্রুত কোনও স্থায়ী সিদ্ধান্ত নিতে নিষেধ করেছেন। তাঁদের পরামর্শ, মানসিক অবসাদ বা বার্নআউটের মধ্যেই বড় কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। তাঁর উচিত এখনই ইস্তফা না দিয়ে প্রথমে দীর্ঘ মেডিকেল লিভ (ছুটি) নেওয়া। যদি অন্য বিভাগে বদলির হওয়া যায়, সেই চেষ্টা করাও উচিত বলে মত তাঁদের।

 

অনেকের আবার মত, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত চাপের মুখে কাজের একটি নির্দিষ্ট সীমা টানা দরকার। প্রয়োজনে হেনস্থার বিরুদ্ধে সংস্থার এইচআর বা মহিলা কমিশনের দ্বারস্থ হওয়া উচিত।

 

এই ঘটনা বর্তমান চাকরি জগতের একটি বড় সত্যকে সামনে এনেছে। একটি সুরক্ষিত সরকারি চাকরি এবং মোটা অঙ্কের ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স থাকলেই জীবন সুন্দর হয় না। কর্মক্ষেত্রে মানসিক শান্তি থাকাও সমান জরুরি।