আজকাল ওয়েবডেস্ক:  মধ্য এশিয়াতে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ভারতের জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি এনে দিল আরও একটি এলপিজি ট্যাঙ্কারের সফল যাত্রা। শুক্রবার কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে গেল ভারতের সপ্তম এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘গ্রিন সানভি’। 


সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার নেওয়ার পর কার্যত হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যেই ‘শিবালিক’, ‘নন্দা দেবী’, ‘জাগ বসন্ত’, ‘পাইন গ্যাস’, ‘বিডব্লিউ এলম’ এবং ‘বিডব্লিউ টাইর’ নামের ছয়টি এলপিজি ট্যাঙ্কার সফলভাবে এই জলপথ অতিক্রম করেছে। সব ক্ষেত্রেই ইরান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে এই যাত্রা সম্পন্ন হয়েছে।


‘গ্রিন সানভি’ ট্যাঙ্কারটি শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রণালীর পূর্বদিকে পৌঁছয়। এটি ইরানের জলসীমার একটি নির্দিষ্ট করিডোর ব্যবহার করে যাত্রা করে, যাতে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানো যায়। জানা গেছে, ট্যাঙ্কারটিতে প্রায় ৪৪,০০০ টন এলপিজি রয়েছে, যা সংঘাত শুরুর আগে ভারতের দৈনিক ব্যবহারের প্রায় অর্ধেকের সমান।


তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে অন্তত ১৭টি এলপিজি ট্যাঙ্কার আটকে রয়েছে। এর মধ্যে ‘গ্রিন আশা’ ও ‘জাগ বিক্রম’ নামের দুটি জাহাজ শীঘ্রই ভারতের দিকে রওনা দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়াও, আরও তিনটি ট্যাঙ্কার পারস্য উপসাগরের আবু মুসা দ্বীপের উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থান করছে এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর নির্দেশ মেনে প্রণালী পার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।


বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্যাঙ্কারগুলোকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। নিজেদের পরিচয় ও জাতীয়তা স্পষ্টভাবে জানাতে হচ্ছে যাতে ভুলবশত কোনও সংঘাতের শিকার না হয়। অনেক জাহাজই মূল নৌপথ এড়িয়ে ইরানের লারাক ও কেশম দ্বীপের মাঝ দিয়ে বিকল্প, তুলনামূলক দীর্ঘ রুট ব্যবহার করছে।


এদিকে ইরান জানিয়েছে মিত্র দেশগুলিকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে দেওয়া হবে। ভারতও এই তালিকায় রয়েছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলির সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলির ওপর এখনও বিধিনিষেধ জারি রয়েছে।


উল্লেখ্য, ভারত তার মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানির উপর নির্ভরশীল, যার বড় অংশই আসে মধ্য এশিয়া থেকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি ব্যাহত হওয়ায় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। যদিও চাহিদা কিছুটা কমেছে, তবুও সরবরাহের চাপ এখনও স্পষ্ট।

 

&t=2s
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সঙ্কট দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব পড়তে পারে। তাই প্রতিটি ট্যাঙ্কারের নিরাপদে দেশে পৌঁছানো এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।