আজকাল ওয়েবডেস্ক: চলছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার বেঙ্গালুরুর সঙ্গে সানরাইজার্স হায়েদরাবাদের আইপিএল-এর ম্যাচ। চরম উত্তেজনা। তার মাঝেই গায়েব হচ্ছে একের পর এক মোবাইল। মাঠে চার-ছ'য়ের বন্যা হলেও পকেটে হাত দিতেই ভোঁভা। ভ্যানিশ ক্রিকেট প্রেমীদের সাধের মোবাইল। মাথায় হাত তাদের। এ ঘটনা গত রবিবার এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের।

হতাশ দর্শকরা এরপর পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। দায়ের হয় ৩০টি মোবাইল চুরির অভিযোগ। শুরু হয় অভিযান। সন্ধান মেলে এক মোবাইল চুরি চক্রের। এরপর পাকড়াও করা হয় ওই চক্রের বেশ কয়েকজনকে। তাদের জেরা করে হদিশ মেলে আরও কয়েকজনের। শেষমেষ ব্যাঙ্গালুরু পুলিশ মোবাইল চুরি চক্রের  মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের মধ্যে চার জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ন'জন নাবালক।

পুলিশ জানিয়েছে, এই মোবাইল চুরি চক্রের সদস্যরা পরিকল্পনা করে ম্যাচের টিকিট চুরি করে স্টেডিয়ামে ঢুকত। জার্সি পরে দর্শকদের মাঝে মিশে যেত। তারপরই শুরু হত মোবাইল চুরির কাজ। পুলিশ ধৃতদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া ৭৫টি মোবাই উদ্ধার করে। এছাড়াও উদ্ধার হয় আরও পাঁচটি মোবাইল। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এই পাঁচটি মোবাইলে তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলত। কে কোথায় আছে, কোন দিকে ভিড় বেশি, কে ক’টা মোবাইল চুরি করল ইতাদি তথ্য আদান-প্রদান হত। 

চুরি চক্রের সদস্যরা মূলত বিহার ও ঝাড়খন্ডের। পুলিশের দাবি, এই চোরেরা দর্শকদের মাঝে ঘাপটি মেরে থাকত। অপেক্ষা করত ভিড় বাড়ার। এরপর খেলা জমে উঠলেই দর্শকরা অন্যমনস্ক হলেই শুরু হত হাত সাফাইয়ের কাজ। গায়েব হত ক্রিকেট প্রেমীদের মোবাইল! শুধু ভিতরে নয়, স্টেডিয়ামের গেটের মুখেও সুযোগ বুঝে চলত চুরি।

চোরেরা মূলত কিশোররা। ভারতের নানান জায়গা থেকে এই কিশোরদের আনা হত বেঙ্গালুরুতে। তারপর তাদের চুরি করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হত। বিপদে পড়লে কীভাবে নিজেদেরকে উদ্ধার করতে হয় সেটাও শেখান হত। পুলিশের কাছে ধরা পড়লে কী বললে ছাড়া পাওয়া যায় বা শাস্তি কিছুটা কমে তাও শেখান হত। প্রাথমিকভাবে পুলিশ মনে করছে, সন্দেহ এড়াতে ইচ্ছাকৃতভাবে নাবালকদের ব্যবহার করা হত। এতে ধরা পড়ার সম্ভাবনা কমে। আর ধরা পড়লেও আইনে শাস্তি কিছুটা কম। 

পুলিশ সূত্রে খবর, যে চার প্রাপ্ত বয়স্ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মধ্যে শুভম কুমার ও এশাল কুমারের বয়স ২৩। সঞ্জিত কুমার ও সোহান কুমারের বয়স ২৪। এছাড়া বাকি ন'জন নাবালককে এ দিন আদালতে তোলা হয়। তারপর সরকারি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে পাঠান হয়েছে তাদের। পুলিশ মনে করছে এই চক্রে আরও অনেকে থাকতে পারে। তার সন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ। বেঙ্গালুরু ছাড়া অন্যা শহরেও এই চক্রের বিস্তার রয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ।