আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেরলের তিরুভল্লার জনসভা থেকে কংগ্রেস এবং বামেদের একযোগে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আক্রমণাত্মক মেজাজে মোদি দাবি করেন, কংগ্রেস এবং বামফ্রন্ট এখন মিথ্যার ‘ফ্যাক্টরি’ বা কারখানায় পরিণত হয়েছে। কেরালা স্টোরি, কাশ্মীর ফাইলস থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ধুরন্ধর— যা কিছু সত্য, তাকেই এই দলগুলো মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিতে চাইছে। কিন্তু বাস্তৱে মিথ্যা বলায় ওস্তাদ হয়ে উঠেছেন খোদ বিরোধী নেতারাই। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, নির্বাচনের লোভে বিরোধীরা এমন সব কুরুচিকর মন্তব্য করছেন যা বিদেশে থাকা ১ কোটি ভারতীয়র জীবনকে বিপন্ন করে তুলছে।
শনিবারের এই সভায় প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এফসিআরএ (FCRA), অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) এবং সিএএ (CAA) নিয়ে বিরোধীরা পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, গোয়াতে কয়েক দশক ধরে ইউসিসি চালু রয়েছে, অথচ তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। মোদির অভিযোগ, কেবল রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে এবং তাঁকে গালি দিতে গিয়ে কংগ্রেস বিদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়া এবং উপসাগরীয় দেশগুলিতে থাকা লক্ষ লক্ষ ভারতীয়র নিরাপত্তা নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে তারা। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, কংগ্রেস চাইছে উপসাগরীয় দেশগুলো যেন ভারতকে শত্রু হিসেবে গণ্য করে। বিদেশের মাটিতে আটকে পড়া মৎস্যজীবীদের উদ্ধারে যখন সরকার দিনরাত কাজ করছে, তখন বিরোধীরা উস্কানিমূলক মন্তব্য করে পরিস্থিতি জটিল করছে।
কেরলের রাজনীতিতে এলডিএফ (LDF) এবং ইউডিএফ (UDF)-কে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ বলে কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এরা বাইরে কুস্তি লড়লেও ভেতরে আসলে এদের গোপন আঁতাত রয়েছে। এদের লড়াই অনেকটা ‘ডব্লিউডব্লিউএফ’ (WWF)-এর সাজানো ম্যাচের মতো। মোদির কথায়, “ওরা একে অপরকে বিজেপির বি-টিম বলে গাল দেয়, কিন্তু কেরল জানে আসল এ-টিম হল বিজেপি।” সবরিমালা মন্দিরের নিখোঁজ সোনা নিয়ে সরব হয়ে তিনি বলেন, দুই জোট মিলে মন্দিরের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে এবং লুটতরাজ চালিয়েছে। এনডিএ কেরলে ক্ষমতায় এলে এই লুটের প্রতিটি হিসাব নেওয়া হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
উপসাগরীয় দেশগুলিতে বসবাসকারী কেরলের মানুষের পরিবারগুলোকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধের আবহে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ওই দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, বিদেশে থাকা প্রতিটি ভারতীয়র পাশে সরকার পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে আছে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার। শেষে কেরালাবাসীর কাছে প্রধানমন্ত্রীর আর্জি, যারা সংকীর্ণ রাজনীতির জন্য দেশ ও দশের ক্ষতি করছে, তাদের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার সময় এসেছে।















