আজকাল ওয়েবডেস্ক: এক মুহূর্তের অসতর্কতা কেড়ে নিল তরতাজা একটি প্রাণ। ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলায় একটি জ্যান্ত মাছ গলায় আটকে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যু হল এক যুবকের। শুক্রবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে ময়ূরভঞ্জের বাগরিপোসি থানা এলাকার দিঘি গ্রামে। মৃত যুবকের নাম অবিনাশ বিজুলি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে গ্রামেরই একটি পুকুরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন অবিনাশ। ছিপে একটি পুঁটি মাছ ধরা পড়েছিল। মাছটি যাতে কোনওভাবে হাত থেকে ফসকে না যায়, তাই তড়িঘড়ি সেটি সামলাতে গিয়ে অবিনাশ জ্যান্ত মাছটিকে নিজের মুখে পুরে দেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যায় অঘটন। অবিনাশের মুখের ভেতর থাকা জ্যান্ত মাছটি হঠাৎ ছটফট করতে করতে তাঁর গলার গভীরে চলে যায় এবং শ্বাসনালীতে গিয়ে আটকে যায়।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই অবিনাশের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তিনি ছটফট করতে থাকেন। গলায় জ্যান্ত কই মাছ আটকে যাওয়ায় তিনি আর নিশ্বাস নিতে পারছিলেন না। পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয়রা তাঁকে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে বাগরিপোসি হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই অবিনাশের অবস্থার অবনতি হয়। চিকিৎসকরা দীর্ঘ চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি। শ্বাসরোধ হয়ে হাসপাতালেই মৃত্যু হয় তাঁর।
মর্মান্তিক এই পরিণতির পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছে শোকাতুর পরিবার। মৃত যুবকের কাকা অভিযোগ করেছেন, “মাছ ধরার সময় জ্যান্ত মাছটি ওর গলায় আটকে গিয়েছিল। আমরা দ্রুত ওকে বাগরিপোসি মেডিক্যালে নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকরা আমাদের সঙ্গে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করেন। কোনও চিকিৎসা না করেই আমাদের ধমক দিয়ে অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।” সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা পেলে অবিনাশকে বাঁচানো যেত কিনা, সেই প্রশ্নই এখন দানা বাঁধছে ওই এলাকায়।
আনন্দ আর শখের মাছ ধরতে গিয়ে এক যুবকের এমন অদ্ভুত ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে গোটা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক করছেন, জ্যান্ত মাছ ধরার সময় তা কখনোই মুখে বা দাঁতে চেপে ধরা উচিত নয়, কারণ মাছের পাখনা বা কাঁটা একবার গলায় গেঁথে গেলে তা বের করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।















