বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি স্বামী পিটার হাগের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার মামলায় এমন একাধিক অভিযোগ তুলেছিলেন, যা রীতিমতো স্তম্ভিত করে দেওয়ার মতো।
2
10
৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ-সহ একাধিক আর্থিক দাবি জানিয়ে মুম্বই আদালতে দায়ের করা মামলায় সেলিনা অভিযোগ করেছেন, স্বামী তাঁকে ‘অস্বাভাবিক’ যৌনতায় বাধ্য করেছেন, তাঁর নগ্ন ছবি তুলে ব্ল্যাকমেল করেছেন, এমনকী অন্য পুরুষের সঙ্গে জোর করে যৌনতা করার জন্য চাপও দিয়েছেন।
3
10
স্বামী পিটার হাগের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসা, মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করার পর এবার এক আবেগঘন বার্তায় নিজের মানসিক অবস্থার কথা সামনে আনলেন তিনি।
4
10
অভিনেত্রী জানান, গত কয়েক বছর তাঁর জীবনের উপর দিয়ে এক বিশাল ঝড় বয়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, "এমন অনেক রাত কেটেছে যখন আমি একা অন্ধকার ঘরে বসে কেঁদেছি। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে পড়েছিল যে আমি নিজের উপর থেকে সমস্ত বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলাম।"
5
10
সেলিনা স্বীকার করেছেন যে, বিচ্ছেদের এই আইনি লড়াই কেবল আইনি ছিল না, ছিল এক চরম মানসিক যুদ্ধ। একসময় তিনি এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে নিজের অস্তিত্ব নিয়েই সন্দিহান হয়ে ওঠেন।
6
10
সেলিনা আরও জানান, সমাজ এবং গ্ল্যামার জগতের চাকচিক্যের পিছনে যে একাকীত্ব লুকিয়ে থাকে, তা সচরাচর কেউ দেখতে পায় না। তিনি চেয়েছেন তাঁর এই সংগ্রামের কথা শুনে অন্য নারীরাও সাহস পান। তিনি বলেন, "হাল ছেড়ে দেওয়া খুব সহজ ছিল, কিন্তু সন্তানদের মুখ চেয়ে আমাকে লড়াই চালিয়ে যেতে হয়েছে।" বর্তমানে তিনি সেই বিষাক্ত সময় কাটিয়ে উঠে নতুনভাবে বাঁচতে শিখছেন।
7
10
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মুম্বইয়ের আন্ধেরির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফার্স্ট ক্লাস আদালতে পিটার হাগের বিরুদ্ধে মামলা করেন সেলিনা। সেই মামলায় তিনি ৫০ কোটি টাকা ও অন্যান্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এবার ইনস্টাগ্রামে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে অভিনেত্রী দাবি করেছেন, বর্তমানে তাঁকে তাঁর তিন সন্তানের সঙ্গে কোনওরকম যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং শিশুদের বিরুদ্ধে তাঁর বিরুদ্ধেই ‘ব্রেনওয়াশ’ করা হচ্ছে।
8
10
তিনি আরও জানিয়েছিলেন, ভারতে ফিরে নিজেরই বাড়িতে ঢোকার অধিকার পেতেও তাঁকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। ওই সম্পত্তিটি তিনি ২০০৪ সালে কিনেছিলেন, বিয়ের বহু আগে। অথচ সেই বাড়ির উপরও এখন স্বামী দাবি করছেন বলে অভিযোগ। এই আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে তাঁকে বড় অঙ্কের ঋণ নিতেও হয়েছে।
9
10
সেলিনা আরও জানান, তাঁর ১৫তম বিবাহবার্ষিকীতে তাঁকে প্রতারণার মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের নোটিস ধরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর কথায়, “একটি উপহারের অজুহাতে আমাকে স্থানীয় পোস্ট অফিসে নিয়ে গিয়ে ডিভোর্স নোটিশ দেওয়া হয়।”
10
10
এরপর তিনি শান্তিপূর্ণ বিচ্ছেদের প্রস্তাব দিলেও তা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন। বরং তাঁর বিয়ের আগের সম্পত্তি নিয়ে দাবি করা হয় এবং এমন সব শর্ত চাপানো হয়, যা তাঁর স্বাধীনতা ও সম্মান কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা বলে তিনি দাবি করেছিলেন।