আজকাল ওয়েবডেস্ক: লকডাউন নয়। কিন্তু এলপিজি সঙ্কটে করোনাকালের লকডাউনের মতোই দশা দেশে। গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় যেমন মধ্যবিত্তের মাথায় হাত, তেমনই চাকরি হারিয়ে ধুঁকছেন পরিযায়ী শ্রমিকরাও। ধীরে ধীরে ভিন রাজ্য থেকে ঘরেই ফিরছেন তাঁরা। 

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দিল্লি, মুম্বই, হায়দরাবাদ, সুরাট থেকে নিজেদের শহরে ফিরে যাচ্ছেন পরিযায়ী শ্রমিকেরা। একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, খাবারের মূল্যবৃদ্ধি, অন্যদিকে এলপিজি সঙ্কট। দু'বেলা দু'মুঠো খেতে গেলেও হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে। চাপের মুখে বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত তাঁদের। 

 

এলপিজি সঙ্কটের জেরে কালোবাজারিও শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ। এই আবহে গ্যাস সিলিন্ডার জোগাড় করতে গিয়েও কালঘাম ছুটছে সকলের। পাশাপাশি হোটেলেও বাড়ছে খাবারের দাম। স্বল্প আয়। মাস চালাতে গিয়েই রীতিমতো দুশ্চিন্তায় শ্রমিকরাও।‌ 

 

খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায়, অনেকেই দু'বেলা খাবার খাচ্ছেন না। একবেলা কোনও মতে খেয়েই দিনরাত পরিশ্রম করছেন। খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাই বড় শহর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। 

 

দেশজুড়ে একাধিক বড় শহরে রাস্তা, আবাসন নির্মাণে, হোটেল, রেস্তোরাঁ, এমনকী রাস্তার ধারের ফুড স্টলেও কর্মী, শ্রমিকদের ঘাটতি দেখা গেছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের কথায়, 'গ্যাস নেই। খাবার পাচ্ছি না। আর কোনও উপায় নেই। তাই চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফিরে যাচ্ছি।' শ্রমিকদের অভাবে বহু জায়গায় কাজ থেমে আছে। বন্ধ হচ্ছে হোটেল, রেস্তারাঁ। যা আবারও লকডাউনের পরিস্থিতিই মনে করাচ্ছে। 

 

একাধিক বড় শহরে একের পর এক রেস্তোরাঁ বন্ধ হচ্ছে। দাম বাড়ছে ছোট ছোট ধাবা, দোকানেও। যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও কিছুদিন স্থায়ী হলে করোনাকালের দৃশ্য ফুটে উঠতে পারে দেশজুড়ে। 

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'ইন্ডিয়া টুডে'র রিপোর্ট অনুযায়ী, নয়ডায় দিন কয়েক আগেই ছোটখাটো দোকানের মালিক জানিয়েছিলেন, তাঁরা এলপিজি সিলিন্ডার ১৫০০ টাকায় কিনেছিলেন। এখন সেখানে ছোটখাটো দোকানের মালিকরা এলপিজি সিলিন্ডার কিনছেন ২৫০০ টাকায়। যার জেরে ছোট একটি সিঙাড়ার দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশ। এমনকী চায়ের দাম ১০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫ টাকা হয়েছে। 

 

এলপিজি গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায়, এই সঙ্কটকালে একের পর এক রেস্তোরাঁ, ধাবা, চায়ের দোকান, জাঙ্ক ফুডের ছোট্ট স্টল ও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রেস্তোরাঁ বন্ধ এবং নামী রেস্তোরাঁয় মেনু কাটছাঁট হওয়ায় গিগ কর্মীদের মাথায় হাত। শ্রমিক সংগঠনের তরফে জানা গেছে, লক্ষ লক্ষ গিগ কর্মী ইতিমধ্যেই চাকরি খুঁইয়েছেন। এলপিজির সঙ্কটে বিভিন্ন শহরে খাবার ডেলিভারি ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমে গেছে। 

 

শুধু নয়ডা নয়, দিল্লি, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, কলকাতা, মুম্বইয়েও এই এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।‌ চাকরি হারিয়ে গিগ কর্মীরা জানিয়েছেন, 'মনে হচ্ছে যেন লকডাউনে আছি। অন্তত করোনাকালে আমরা কিছু খেতে পেরেছি। ফের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে ভাবতে পারিনি।'