আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রেমের টানে বাড়ি থেকে পালিয়ে ভিন রাজ্যের উদ্দেশে রওনা কিশোরীর। জল না খেয়ে, চড়া রোদেই ঘটল বিপত্তি। কয়েক কিলোমিটার পথ হাঁটার পরেই জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ল। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে সে।

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানে। খৈরথাল-তিজারা জেলায় ভিয়ান্দি এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলার এক কিশোরের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল ভিয়ান্দির এক কিশোরীর। ক্রমেই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই কিশোরীর সঙ্গে দেখা করতে বাড়ি থেকে পায়ে হেঁটে যাত্রা শুরু করে কিশোরী। কয়েক কিলোমিটার হাঁটার পরেই জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ে সে। 

 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, আট কিলোমিটার পথ হাঁটার পরেই অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে কিশোরী। মাঝ পথেই অসুস্থ হয়ে সে লুটিয়ে পড়ে। তড়িঘড়ি করে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করতে ছুটে আসেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেই কিশোরীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। 

 

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, মধ্যপ্রদেশের ওই কিশোরের সঙ্গে দেড় বছর ধরে ফোনেই কথা বলত কিশোরী। দেড় বছরে সামনাসামনি কখনও দেখা হয়নি তাদের। এবার সামনাসামনি দেখা করার জন্যেই বাড়ি থেকে পায়ে হেঁটে রওনা দিয়েছিল কিশোরী। বাড়িতেও কাউকে জানায়নি সে। পাশের দোকানে যাওয়ার অজুহাতে, বিনা প্রস্তুতিতে বেরিয়ে পড়ে। জল না খেয়ে, তীব্র রোদে, গরমেই অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। 

 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, কিশোরীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হতেই আলওয়ার জেলা হাসপাতালে তাকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল নয়। চিকিৎসায় আরেকটু দেরি হলেই ভয়ঙ্কর পরিণতি হতে পারত। 

 

গত বছর আগস্ট মাসে এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। ভালবাসার টানে ভিন রাজ্যে পাড়ি। সোশ্যাল মিডিয়ায় আলাপ হওয়া বান্ধবীর সঙ্গে খানিকটা সময় একান্তে কাটাতে চেয়েছিলেন যুবক। কিন্তু হিতে বিপরীত হল। ভিন রাজ্যে বান্ধবীর বাড়ি পৌঁছেই চরম নির্যাতনের শিকার হলেন তিনি। ওই বান্ধবীর পরিবারের সদস্যরা কয়েক ঘণ্টা ধরে বেধড়ক মারধর করলেন যুবককে। 

 

বান্ধবীর বাড়ির উঠোনেই অত্যাচার শিকার হয় ওই যুবক। তাঁকে একটি খুঁটিতে বেঁধে কয়েক ঘণ্টা ধরে বেধড়ক মারতে থাকে পরিবার। যে ঘটনার ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। 

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রদেশের মৌগঞ্জে। সেখানকারই পিপরাহি গ্রামে শনিবার নির্যাতনের শিকার হন যুবক। আদতে রেওয়া জেলার বাসিন্দা তিনি। ১০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে পিপরাহি গ্রামে এক বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তিনি। 

 

জানা গেছে, রেওয়া থেকে মৌগঞ্জের ওই গ্রামের দূরত্ব ১০০ কিলোমিটার। সেখানে পৌঁছতেই যুবককে হাতেনাতে ধরে তাঁর বান্ধবীর পরিবার। এরপর বেধড়ক মারধর শুরু করে। শনিবার রাত ৯টা থেকে রবিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত যুবককে ব্যাপক মারধর করেন তাঁরা। টানা ১৩ ঘণ্টা ধরে এই খুঁটিতে যুবককে বেঁধে উত্তম মধ্যম পেটায় তারা। 

 

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, যুবকের থেকে তাঁর বান্ধবী বয়সে অনেক ছোট। আদতে সে এখন নাবালিকা। ওই নাবালিকার সঙ্গে যুবকের ফেসবুকে আলাপ হয়েছিল। কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শেষমেশ নাবালিকার প্রেমে হাবুডুবু খেতে শুরু করেন যুবক। বান্ধবীকে সামনাসামনি দেখতেই ওই গ্রামে পৌঁছেছিলেন। ঘটনাটি ঘিরে শোরগোল পড়লেও, থানায় এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে পুলিশ বিষয়টি আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দেখা শুরু করবে বলে জানিয়েছে।