আজকাল ওয়েবডেস্ক: আলাপ করতেই ইচ্ছুক নয়। রাগের মাথায় নবম শ্রেণির ছাত্রীকে লক্ষ্য করে অ্যাসিড ছুড়ে মারলেন তরুণ। তিন দিন তল্লাশি অভিযান চালানোর পর অভিযুক্ত তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানে। মঙ্গলবার পুলিশ জানিয়েছে, ১৪ বছরের এক কিশোরীর ওপর অ্যাসিড হামলার অভিযোগ উঠেছে এক তরুণের বিরুদ্ধে। পেশায় ওই তরুণ একজন ফটোগ্রাফার। তিন দিন তল্লাশি চালানোর পর অবশেষে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, নবম শ্রেণির ওই ছাত্রী স্কুলে যাচ্ছিল সেদিন। পথেই ওই তরুণ কথা বলার জন্য কিশোরীকে জোরাজুরি করছিলেন। যা ঘিরে আপত্তি জানায় ওই কিশোরী। এমনকী জনসমক্ষে বকাঝকাও করে। এর জেরেই কিশোরীকে লক্ষ্য করে অ্যাসিড ছুড়ে মারেন ওই তরুণ।
পুলিশি জেরায় ১৯ বছরের অভিযুক্ত তরুণ জানিয়েছেন, এক বিয়ের অনুষ্ঠানে কিশোরীকে দেখেছিলেন তিনি। তখনই পছন্দ হয়েছিল তাঁর। কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে, হেনস্থার শিকার হন তিনি। তখনই প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।
শ্রী গঙ্গানগর জেলায় সুভাষ পার্ক এলাকায় কিশোরীর পিছু নেন তিনি। সুযোগ বুঝে প্রকাশ্য দিবালোকে কিশোরীর ওপর অ্যাসিড ছুড়ে মারেন। কিশোরীর জামায় ও আঙুলে অ্যাসিড লাগে। ভয়ঙ্কর পরিণতি থেকে বরাতজোরে বেঁচে গেছে সে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে সোমবার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গত বছর জুলাই মাসে এমন আরেকটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল।তুতো বোনকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন দাদা। সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় চরম পদক্ষেপ। তুতো বোনের মুখে অ্যাসিড ছুড়ে মারেন দাদা। এরপর নিজেও আগুন জ্বালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণাটকের চিক্কাবল্লপুরায়। পুলিশ জানিয়েছে, ১৮ বছরের কিশোরীর মুখে বাথরুম পরিষ্কার করার অ্যাসিড ছুড়ে মারেন বছর ২০-র এক তরুণ। সম্পর্কে তাঁরা একে অপরের আত্মীয় ছিলেন। বোনের মুখে অ্যাসিড ছুড়ে মারার পর, গায়ে পেট্রোল ঢেলে, আগুনে পুড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তরুণ।
তদন্তে নেমে জানা গেছে, তুতো বোনকে একাধিকবার বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তরুণ। পরিবারে আপত্তি থাকায়, বারবার সেই প্রস্তাবে সাফ 'না' জানায় কিশোরী। সম্প্রতি প্রতিশোধ নিতে চরম পদক্ষেপের পরিকল্পনা করেন তরুণ। বাড়ির মধ্যে বোনের মুখে অ্যাসিড ছুড়ে মেরে, আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরীর গুরুতর ক্ষতি হয়নি। মুখের বিশেষ কোনও ক্ষতি হয়নি। যদিও সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। অন্যদিকে তরুণ ৭০ শতাংশ অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
