আজকাল ওয়েবডেস্ক: হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার ইস্যুতে উত্তরপ্রদেশ ও বিহার থেকে আসা পরিযায়ী নাগরিকদের উদ্দেশে কড়া সতর্কবার্তা দিলেন মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা প্রধান রাজ ঠাকরে।

রবিবার উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে যৌথ জনসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। দীর্ঘদিন পর একই মঞ্চে দুই ঠাকরের এই সভাকে আসন্ন বিএমসি নির্বাচনে ‘মারাঠি অস্তিত্বের শেষ লড়াই’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ ঠাকরে বলেন, ‘উত্তরপ্রদেশ ও বিহার থেকে আসা মানুষদের বুঝতে হবে হিন্দি তোমাদের ভাষা নয়। আমি ভাষাকে ঘৃণা করি না। কিন্তু যদি তা জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে আমার কাছে লাথি খেতে হবে।’

তাঁর এই বক্তব্যে সভাস্থলে উপস্থিত জনতার মধ্যে প্রবল উচ্ছ্বাস দেখা যায়। প্রচারে হিন্দি জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে সুর আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

উল্লেখ্য, আগামী ১৫ জানুয়ারি বিএমসি নির্বাচন হবে বলে জানা গিয়েছে। পুরসভা নির্বাচনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাজ বলেন, ‘এটা শুধু বিএমসি দখলের লড়াই নয়। চারদিক থেকে মানুষ এসে মহারাষ্ট্রে স্থানীয়দের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। জমি ও ভাষা যদি চলে যায়, তাহলে মারাঠিদের অস্তিত্বই থাকবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটাই মারাঠি নাগরিকদের শেষ নির্বাচন। আজ যদি ঐক্যবদ্ধ না হও, ভবিষ্যতে তোমাদের আর কোনও অস্তিত্ব থাকবে না। মারাঠি ও মহারাষ্ট্রের জন্য একজোট হও।’

মুম্বই এবং মহারাষ্ট্রের অংশ হওয়ার পিছনে বহু মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘তাঁদের আমরা কী জবাব দেব?’ ভোটের দিন দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে কড়া নির্দেশও দেন রাজ ঠাকরে। তিনি বলেন, ‘সকাল ৬টায় যাঁদের বুথ লেভেল এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁদের প্রস্তুত থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। কেউ যদি দ্বিতীয়বার ভোট দিতে আসে, ভোটকেন্দ্র থেকে সোজা বের করে দেবে।’

পাশাপাশি ইভিএম ও তথাকথিত দ্বৈত ভোটারদের ওপর নজর রাখার নির্দেশ দেন তিনি। সভায় রাজ ও উদ্ধব দু’জনেই বিজেপির বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্র বিরোধী সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক নীতি অনুসরণের অভিযোগ তোলেন।

এমনকী, রাজ ঠাকরে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত হিন্দি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবকে বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, ‘কোনও ভাষার বিরুদ্ধে আমাদের রাগ নেই, রাগ আছে ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে।’ এই নীতিকে মারাঠি মানুষের সচেতনতার পরীক্ষা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়া বিজেপির বিরুদ্ধে মুম্বই ‘লুট’ করার অভিযোগ তুলে রাজ দাবি করেন, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি ধারাবাহিকভাবে গৌতম আদানি নেতৃত্বাধীন শিল্পগোষ্ঠীকে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে। এমনকী, মুম্বইকে গুজরাট কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে প্রতিনিয়ত।