আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে জ্বালানি সঙ্কট। রবিবার রাতে সে কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়ে দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয়ের আর্জি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে করোনাকালের কথা উল্লেখ করে বাড়ি থেকে কাজ করা, বিদেশযাত্রা এবং সোনা কেনায় হ্রাস টেনে বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডার সংরক্ষণেরও আর্জি জানান। আর তার পরেই রাজনৈতিক মহলে এই নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সুর চড়িয়েছেন রাহুল গান্ধী-সহ অন্যান্যরা।
গতকাল প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার তীব্র সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। সরব হয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে মোদী সরকারের ১২ বছরের শাসনকালকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। বলেছেন, "মোদীজি গতকাল জনগণের কাছে ত্যাগ স্বীকারের দাবি জানিয়েছেন। মানুষকে বলেছেন সোনা কিনবেন না, বিদেশে যাবেন না, কম তেল ব্যবহার করুন, সার ও রান্নার তেল কমান, মেট্রো ব্যবহার করুন, বাড়ি থেকে কাজ করুন। এগুলো কেবল উপদেশ নয়, সরকারের ব্যর্থতার প্রমাণ।" রাহুল তাঁর পোস্টে আরও যোগ করেন, বলেন "১২ বছরে দেশকে এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে যেখানে সরকার নিজের দায়বদ্ধতা এড়াতে বারবার সাধারণ মানুষের উপর বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে।" একইসঙ্গে মোদিকে 'আপোসকারী প্রধানমন্ত্রী' বলেও কটাক্ষ করেন রাহুল।
এ নিয়ে সরব কংগ্রেসের অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও। দলের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল মোদিকে 'দিশাহারা' বলে কটাক্ষ করেছেন। বলেছেন, "যুদ্ধের এতদিন পরেও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুরক্ষিত করা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কোনও ধারণা নেই। সাধারণ মানুষকে অসুবিধার মধ্যে ঠেলে দেওয়ার বদলে সরকারের উচিত ছিল আগেভাগে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুতের ব্যবস্থা করা।"
অন্য দিকে, কংগ্রেস সাংসদ পি চিদাম্বরম প্রধানমন্ত্রীর হঠাৎ এই করা নির্দেশিকা জারির নেপথ্যে কোন কারণ রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একইসঙ্গে অবিলম্বে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, "দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক অবস্থা জনগণের সামনে স্পষ্ট করা উচিত সরকারের।"
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ ভাবে হামলা করে ইরানে। বর্তমানে সংঘর্ষবিরতি চললেও আমেরিকা ও ইরান, দুই দেশই মাঝেমধ্যে নানা অজুহাতে তা লঙ্ঘন করছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সঙ্কট অব্যাহত। গত দুই মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্য বন্ধ থাকায় আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে ভারত বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার হায়দরাবাদে একাধিক এক অনুষ্ঠান থেকে মোদী দেশবাসীর কাছে জ্বালানি সাশ্রয় ও বিদেশি মুদ্রা সংরক্ষণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে, জনসাধারণকে অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর এড়িয়ে চলা, এক বছরের জন্য সোনা কেনায় হ্রাস, পেট্রোল-ডিজেলের সংযত ব্যবহার এবং যথাসম্ভব 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' বা বাড়ি থেকে কাজ করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি, গাড়ির বদলে গণপরিবহণ বা কারপুল ব্যবহার করার আর্জিও জানান।















