আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিট ২০২৬ আবারও বড় বিতর্কের মুখে পড়ল। পরীক্ষার আগে ছাত্রছাত্রীদের কাছে ছড়িয়ে পড়েছিল হাতে লেখা একটা প্রশ্নপত্র। পরে পুলিশি তদন্তে সামনে আসে, হাতে লেখা কাগজটায় পরীক্ষার প্রশ্নের অনুরূপ কিছু লেখা ছিল। ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে প্রশ্নপত্র নেটে ছড়িয়েছিল, সেটি আসলে নিটেরই প্রশ্নপত্র। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজস্থান পুলিশের স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ বা এসওজি নিট ২০২৬ কে ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্কের তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে একটি হাতে লেখা “গেস পেপার” পাওয়া গেছে। সেখানে প্রায় ১৪০টি প্রশ্ন ছিল। অভিযোগ, সেই প্রশ্নগুলিই পরে চলতি বছরের ৩ মে আয়োজিত নিট পরীক্ষায় আসে। সব মিলিয়ে মোট ৬০০ নম্বরের প্রশ্ন ছিল বলে তথ্য সূত্রে জানা গিয়েছে। এদিকে নিটের মোট নম্বর ৭২০। 

প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, তদন্তকারীদের দাবি, ১ মে থেকেই রাজস্থানের সিকার এলাকায় ওই প্রশ্নব্যাঙ্ক ঘুরতে শুরু করে। এখন পুলিশ খতিয়ে দেখছে প্রশ্নপত্রটি শুধুই একটি সাজেশন প্রশ্নপত্র মাত্র নাকি পরিকল্পিতভাবে পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন ফাঁস করা হয়েছিল। চলতি মাসের ১০ তারিখে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ একটি বিবৃতিতে জানায়, ‘নিট ২০২৬ পরীক্ষা নিয়ে সমস্ত অভিযোগের ব্যপারে আমরা অবগত। পরীক্ষার দিন চারেক বাদে সমস্ত অভিযোগ আমাদের কাছে আসে।’ তারা অভিযোগগুলি নিয়ে বিস্তারে কিছু জানে না, ফলে এরপর বিষয়টি তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়। 

এনটিএ জানিয়েছে, তদন্তকারী সংস্থাগুলি যা সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই সরকারি নিয়ম মেনে জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করা হবে। তাদের কথায়, যদি প্রয়োজন পড়ে তাহলে তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কিন্তু এই বিবৃতির পরেও বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। তার কারণ, শুধু যে প্রশ্ন লেখা রয়েছে কাগজটায় তাই নয়, বিকল্প প্রশ্নগুলিও লেখা রয়েছে। তদন্তে উঠে আসে, পরীক্ষার দু’দিন আগে প্রশ্নপত্রটি সিকারের ছাত্রছাত্রীদের কাছে প্রায় ২০ হাজার থেকে দু’লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়। আরও অভিযোগ ওঠে, প্রশ্নপত্রটি পরীক্ষার আগের দিন পর্যন্ত নূন্যতম ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। 

তদন্তে সন্দেহের তালিকায় উঠে এসেছে চুরুর এমবিবিএস পড়া এক ছাত্রের নাম। তিনি কেরলের একটি মেডিকেল কলেজের ছাত্র। অভিযোগ, তিনি নিজের বন্ধুর সঙ্গে প্রশ্নপত্রটি ভাগ করে নেন। কিন্তু, তারপরেই ধীরে ধীরে প্রশ্নপত্রটি একে একে হোস্টেল থেকে তাঁর সহপাঠী এবং একালার অন্যান্য কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে ছড়িয়ে পড়ে। 

তদন্তকারীদের দাবি, পুরো প্রশ্নপত্রে একজনেরই হাতেরলেখা ছিল। ৩০০ টিরই বেশি প্রশ্ন, তার মধ্যে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন এবং জীববিজ্ঞানের নানান প্রশ্ন ছিল। এগুলির মধ্যে প্রায় ১৪০টি প্রশ্ন পরীক্ষায় আসে। নিটে প্রতিটি প্রশ্নের জন্য চার নম্বর করে থাকে। ফলে, যদি তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায় যে প্রশ্নগুলি নিতান্তই সাজেশন হিসাবে ছড়িয়ে পড়েনি, পরিকল্পিতভাবে প্রশ্নগুলি পরীক্ষার আগে ফাঁস করা হয়েছিল, তাহলে ছাত্রদের পরীক্ষার ফলাফলের উপরে একটি বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মত। 

এখন এনটিএ রাজস্থান এসওজি-র তদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে। তদন্তে দেখা হচ্ছে, এর পিছনে বড় কোনও চক্র কাজ করেছে কি না। প্রশ্নব্যাঙ্ক কোথা থেকে এল, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০২৪-এর নিট পরীক্ষাকেন্দ্রীক বিতর্ককে। ২০২৪ সালে প্রশ্নফাঁস, নম্বর বাড়িয়ে দেওয়া এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। দেশজুড়ে ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। বিরোধীরাও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছিল।