আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তেল ও জ্বালানি সঙ্কট। এই পরিস্থিতিতে তেলের খরচ কমাতে ফের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর ঘোষনা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। 

প্রধানমন্ত্রীর এই আর্জি ঘিরে কর্পোরেট দুনিয়ায় এখন সাজ সাজ রব। অতিমারির সময় ঘরবন্দি কাজের দিনগুলো কি তবে আবার ফিরতে চলেছে? এই নিয়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।

তেলেঙ্গানার সেকেন্দ্রাবাদে এক অনুষ্ঠানে মোদি স্পষ্ট বলেন, অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত বন্ধ করে জ্বালানি বাঁচাতে হবে। তাঁর পরামর্শ- "দরকার ছাড়া গাড়ি বের করবেন না। প্রয়োজনে মেট্রো বা বাস ব্যবহার করুন। আর অফিসগুলোতে ভার্চুয়াল মিটিং বা ভিডিও কনফারেন্সের ওপর জোর দিন।" 

প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা নিয়ে একপ্রকার চিন্তিত ওয়াকিবহাল মহল। অনেকের মতে, পরিস্থিতি আরও বিগড়োলে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ আর কেবল পরামর্শের স্তরে থাকবে না, সরকারি নির্দেশিকা হয়েও আসতে পারে।

মুম্বইয়ের কর্মী শ্রুতি পালের মতে, কাজের জন্য অফিসে গিয়ে হাজিরা দেওয়ার চেয়ে কাজ ঠিকঠাক হওয়াটা বেশি জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর এই ভাবনায় সায় দিয়েছেন গুরুগ্রামের কর্মী অভিষেকও। তাঁর দাবি, বর্তমান পরিকাঠামোয় বাড়ি থেকে কাজ চালানো খুব একটা কঠিন হবে না।

শুধু কর্মীরাই নন, অনেক সংস্থার মালিকও প্রধানমন্ত্রীর সুরেই কথা বলছেন। ‘সারাফ ফার্নিচার’-এর কর্ণধার রঘুনন্দন সারাফের মতে, বাড়ি থেকে কাজ করলে কর্মীরা চাপমুক্ত থাকেন, কাজের মানও বাড়ে। আবার ‘মেন্টোরিয়া’র সিইও শিখর অরোরা মনে করেন, ডেস্কে বসে কত ঘণ্টা কাটল, তা দিয়ে এখন আর কাজের বিচার হয় না। ফল ভালো হলেই হলো।

তবে সংশয়ও আছে বিস্তর। অনেকেই বলছেন, আইটি বা সফটওয়্যার কোম্পানিতে বাড়ি থেকে কাজ করা সহজ হলেও কলকারখানা বা ছোট ব্যবসায় তা সম্ভব নয়। ‘টিমলেজ’-এর বালাসুব্রহ্মণ্যম-এর মতে, সব কোম্পানির জন্য এই নিয়ম খাটবে না। আবার অনিল আগরওয়াল মনে করিয়ে দিয়েছেন, অনেক ছোট সংস্থারই এখনও তেমন উন্নত প্রযুক্তি বা পরিকাঠামো নেই।

অতিমারির সময় দেশ একরকম বাধ্য হয়েই ঘরে বসে কাজ করেছিল। কিন্তু এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এবার লড়াই তেলের বাজার আর অর্থনীতির সঙ্কট মোকাবিলা। এই সঙ্কট মেটাতেই প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ‘কর্তব্য পালনের’ ডাক দিয়েছেন।