আজকাল ওয়েবডেস্ক: পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক এক বছর আগে রাজ্যের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক আবহাওয়া উত্তপ্ত করে তুলল 'বেয়াদবি' বা ধর্মগ্রন্থ অবমাননা বিরোধী নতুন আইন। শিখদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় পীঠস্থান অকাল তখত এবং আম আদমি পার্টি (AAP) পরিচালিত পঞ্জাব সরকারের মধ্যে এই নিয়ে এখন সরাসরি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
শিখ ধর্মগ্রন্থ শ্রী গুরু গ্রন্থ সাহেব অবমাননা রুখতে সম্প্রতি পাশ হওয়া 'দ্য জাগত জোত শ্রী গুরু গ্রন্থ সাহেব সৎকার (সংশোধনী) আইন ২০২৬'-এর বেশ কিছু ধারাকে "আপত্তিকর" বলে দেগে দিয়েছে অকাল তখত। গত ৮ মে অকাল তখতের প্রধান কুলদীপ সিং গরগজ পঞ্জাব সরকারকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ওই ধারাগুলো সংশোধন বা প্রত্যাহার না করলে সরকারের বিরুদ্ধে "কঠোর ব্যবস্থা" নেওয়া হবে।
অকাল তখতের অভিযোগ, শিখ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা শিরোমণি গুরুদ্বার প্রবন্ধক কমিটি (SGPC)-র সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই অত্যন্ত গোপনে ও তড়িঘড়ি এই আইন পাশ করেছে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের সরকার। তাদের দাবি, আইনের কিছু ধারা শিখদের অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সরাসরি সরকারি হস্তক্ষেপের শামিল, যা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
তবে অকাল তখতের এই সময়সীমা ও হুঁশিয়ারিকে কার্যত নস্যাৎ করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। শনিবার এক কড়া বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, "কোনও অবস্থাতেই এই বেয়াদবি বিরোধী আইন ২০২৬ প্রত্যাহার করা হবে না।" রাজ্যপালের সই হওয়ার পর এই আইন এখন রাজ্যে কার্যকর এবং এটি শিখ সমাজের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বলেই তিনি মনে করেন।
অকাল তখতের এই বিরোধিতার নেপথ্যে শিরোমণি আকালি দলের প্রধান সুখবীর সিং বাদল ও তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক হাত দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী। মানের সরাসরি তোপ, "বাদল পরিবার নিজেদের স্বার্থে জাঠেদারদের ব্যবহার করছে এবং তারা আসলে শিখ পন্থের বদলে 'বাদল পন্থ' তৈরি করতে চাইছে।" এই আইনের সমর্থনে বর্তমানে রাজ্যজুড়ে 'শুকরানা যাত্রা' করছেন মুখ্যমন্ত্রী, যা অকাল তখত প্রধানের মতে আদতে একটি 'অহংকার যাত্রা' এবং শিখদের সর্বোচ্চ পীঠস্থানকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানোর নামান্তর।
অকাল তখত প্রধানের আপত্তির অন্যতম কারণ হলো, গুরু গ্রন্থ সাহেবের পবিত্র 'বীর' বা প্রতিলিপি কার কার বাড়িতে রয়েছে, সেই তথ্য জনসমক্ষে আনার সরকারি নিয়ম। তাঁদের আশঙ্কা, এতে ভক্তদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে যাবে যা শিখ-বিরোধী শক্তিরা অপব্যবহার করতে পারে। পঞ্জাব বিধানসভার স্পিকার কুলতার সিং সান্ধওয়ানকে অকাল তখতে তলব করে এই আপত্তিকর ধারাগুলো সরানোর জন্য ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।
যদিও মুখ্যমন্ত্রী নিজের অবস্থানে অনড়, স্পিকার জানিয়েছেন তিনি বিষয়টি নিয়ে সরকারের সঙ্গে কথা বলবেন। ২০২৭-এর নির্বাচনের আগে শিখ ভাবাবেগ এবং সরকারি আইনের এই লড়াই পঞ্জাবের রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার। ১৫ দিনের সময়সীমা শেষে অকাল তখত যদি কোনও কঠোর ধর্মীয় ফতোয়া জারি করে, তবে পঞ্জাবে বড়সড় রাজনৈতিক সংকটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।















