আজকাল ওয়েবডেস্ক: মা কি কখনও সন্তানের মৃত্যুর কারণ হতে পারে? পুনের বাইফ রোড এলাকায় এমনই এক মর্মান্তিক ঘটনা ঠিক এই প্রশ্নই তুলল সবার সামনে। নিজের ১১ বছরের ছেলেকে গলা কেটে খুন করার অভিযোগ উঠল খোদ মায়ের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ১৩ বছরের মেয়েকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করেন ওই মহিলা। ছেলের মৃত্যু হলেও, মেয়েটি গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এই ঘটনায় রীতিমত হুলুস্থুল চারিদিকে। কিন্তু কারণ কী?
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত মহিলার নাম সোনি সন্তোষ জয়ভয়। তিনি মূলত নান্দেদ জেলার কান্ধারের বাসিন্দা। মৃত ছেলের নাম সাইরাজ। পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার আচমকাই নিজের দুই সন্তানের ওপর চড়াও হন সোনি। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সাইরাজের। গুরুতর আহত অবস্থায় মেয়ে ধনাশ্রীকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত মা-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঠিক কী কারণে নিজের সন্তানদের ওপর এমন নৃশংস হামলা চালালেন তিনি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর পিছনে পারিবারিক অশান্তি নাকি মানসিক কোনও অবসাদ রয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, গত শনিবারের ঘটনা। দেখে মনে হয়েছিল, অবসাদ থেকে চরম পথ বেছে নিয়েছেন যুবতী। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই সেই ঘটনায় এল নাটকীয় মোড়। পুলিশ জানাল, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় করা খুন। অভিযোগে মঙ্গলবার বৈশাখ (৩৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত যুবক সম্পর্কে ওই যুবতীর আত্মীয়।
পুলিশ সূত্রের খবর, বৈশাখের সঙ্গে ২৬ বছর বয়সি যুবতীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। জানা গিয়েছে, যুবতী বিয়ের জন্য চাপ দিতেন। দিনের পর দিন জেদ করায় তাঁকে পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে বৈশাখ। গত ২৪ জানুয়ারি নিজের একটি কারখানায় যুবতীকে ডাকে অভিযুক্ত। জানা গিয়েছে, এরপর তাঁকে বোঝানো হয়, লোকলজ্জার ভয়ে তারা দু’জনেই একসঙ্গে আত্মঘাতী হবে।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, খুনের ছক করতে দু’টি ফাঁসির দড়িও টাঙিয়েছিল বৈশাখ। অন্ধ বিশ্বাসের জেরে যুবতী গলায় ফাঁস দিতেই তাঁর পায়ের নিচ থেকে টুল সরিয়ে দেয় অভিযুক্ত। পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে নিজের স্ত্রীকে ডেকে এনে বৈশাখ দাবি করে, সে এসে যুবতীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেছে। এমনকী স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সে যুবতীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার নাটকও করে।
তবে ফরেনসিক রিপোর্টে উঠে এসেছে এক হাড়হিম করা তথ্য। অভিযোগ, গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় এবং নিচে নামানোর পরেও ওই যুবতীকে যৌন নির্যাতন করে বৈশাখ।
প্রমাণ লোপাটের জন্য ওই রাতে কারখানার সিসিটিভি হার্ড ড্রাইভটিও নষ্ট করার ফন্দি ছিল তার। কিন্তু তার বয়ানে অসঙ্গতি থাকায় পুলিশ আগেই কারখানাটি সিল করে দেয়। এরপর সিসিটিভি ফুটেজ হাতে আসতেই ভেঙে পড়ে বৈশাখ। জেরায় খুনের কথা স্বীকার করেছে সে। পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্যই এই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
