আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের উপর সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ দেখা যায়। বিশেষ করে শিয়া অধ্যুষিত কয়েকটি এলাকায় মানুষ রাস্তায় নেমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং প্যালেস্টাইনের প্রতি সংহতি জানান বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
বিক্ষোভের ছোট ছোট জমায়েত লক্ষ্য করা যায় মাগম এবং বুদ্গম এলাকায়। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, প্রতিবাদকারীরা ইরানের উপর হামলার নিন্দা জানালেও এখন পর্যন্ত বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণই রয়েছে।
রমজানের শেষ শুক্রবারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়তে পারে—এই আশঙ্কায় আগে থেকেই সতর্ক হয়েছিল প্রশাসন। তাই দিনের শুরুতেই শ্রীনগর-সহ উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় জনসমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বিশেষ করে শিয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান।
রমজানের শেষ শুক্রবারকে মুসলিম বিশ্বে জুমা-তুলে-বিদা হিসেবে পালন করা হয়। একই দিনে বহু মুসলিম Youm‑ul‑Quds পালন করেন, যা মূলত প্যালেস্টাইনের প্রতি সমর্থন জানাতে পালিত হয়। সেই কারণে জুম্মার নামাজের পর ইজরায়েল বিরোধী বিক্ষোভের সম্ভাবনা ছিল বলে প্রশাসনের ধারণা। এই পরিস্থিতিতে শ্রীনগরের নওহাট্টা এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক জামা মসজিদ বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। ফলে সেখানে হাজার হাজার মুসল্লির জুম্মার নামাজ আদায় করা সম্ভব হয়নি।
মসজিদ বন্ধের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন কাশ্মীরের প্রধান ধর্মীয় নেতা মিরবাইজ উমর ফারুক। সামাজিক মাধ্যমে তিনি জানান, রমজানের শেষ শুক্রবারে ঐতিহ্যগতভাবে হাজার হাজার মানুষ ওই মসজিদে নামাজ পড়তে জড়ো হন। কিন্তু টানা সপ্তম বছর এই দিনে মসজিদে নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, জেরুজালেমে মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে এই ঘটনার তুলনা টেনে অনেক বিশ্বাসীর কাছে এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, উপত্যকার সামগ্রিক পরিস্থিতির উপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখা হচ্ছে যাতে সব ধরনের জমায়েত শান্তিপূর্ণ থাকে এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত না হয়।
