শহরজুড়ে এখন কেবলই সুমিষ্ট সুবাস। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার মালদা জেলা আজ তার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য আর অনন্য স্বাদে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও গ্রীষ্মের দাবদাহকে সঙ্গী করেই মালদার বাজারগুলোতে উপচে পড়ছে টাটকা আম।
2
7
কেবল পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমপ্রেমী ও ব্যবসায়ীরা ভিড় জমাচ্ছেন এই প্রাচীন জনপদে। দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী ধরে গড়ে ওঠা আম্রকানন, মরসুমি ব্যবসা আর আমের সাথে জড়িয়ে থাকা নিবিড় সংস্কৃতির মেলবন্ধনে মালদা আজ প্রকৃত অর্থেই ভারতের ‘ম্যাংগো সিটি’ বা আমের শহর হিসেবে স্বীকৃত।
3
7
এখানকার উর্বর মাটি আর আবহাওয়া আম চাষের জন্য এতটাই আদর্শ যে, প্রায় ৩০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে বিস্তৃত এই আম্রবলয় আজ হাজার হাজার পরিবারের অন্নসংস্থানের প্রধান উৎস। মালদার আমের তালিকায় প্রথমেই নাম আসে হিমসাগরের। আঁশহীন এবং অত্যন্ত মিষ্টি এই আমটি পাকার পর উজ্জ্বল হলুদ বর্ণ ধারণ করে।
4
7
স্বাদে ও গন্ধে অতুলনীয় হওয়ায় বাজারের আসা মাত্রই হিমসাগর শেষ হয়ে যায়। পিছিয়ে নেই ল্যাংড়াও; এর বিশেষত্ব হল এটি পাকার পরেও বাইরে থেকে সবুজ দেখায়। অত্যন্ত নরম ও কিছুটা টক-মিষ্টি স্বাদের এই আম সারা দেশেই দারুণ জনপ্রিয়।
5
7
অন্যদিকে, আকারে বিশাল এবং দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কারণে ফজলির চাহিদা বাণিজ্যিক মহলে তুঙ্গে। পাশাপাশি লক্ষ্মণভোগ আমটি মালদার গর্ব, কারণ এটি ইতিমধ্যেই তার গুণমানের জন্য জিআই (GI) তকমা পেয়েছে এবং বর্তমানে বিদেশেও প্রচুর পরিমাণে রপ্তানি করা হচ্ছে।
6
7
তবে মালদার আকর্ষণ কেবল আমেই সীমাবদ্ধ নেই। মহানন্দা নদীর তীরে অবস্থিত এই জেলাটি ইতিহাসের এক বিশাল ভাণ্ডার। আমের বাগানের ছায়া ছাড়িয়ে একটু এগোলেই চোখে পড়বে প্রাচীন বাংলার রাজধানী গৌড় ও পাণ্ডুয়ার ধ্বংসাবশেষ। দাখিল দরওয়াজা, ফিরোজ মিনার কিংবা একলাখী মাজারের মতো ঐতিহাসিক স্থাপত্যগুলো আজও পর্যটকদের বিমোহিত করে।
7
7
একদিকে আমের মিষ্টতা আর অন্যদিকে সুলতানি আমলের রাজকীয় ইতিহাস— এই দুইয়ের মেলবন্ধনে মালদা হয়ে উঠেছে ভ্রমণপিপাসু ও ভোজনরসিকদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য। গ্রীষ্মের এই আম উৎসবে তাই মালদা কেবল একটি জেলা নয়, বরং বাঙালির আবেগ ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত দলিল হয়ে ধরা দেয়।