আজকাল ওয়েবডেস্ক: "ভারত নিয়মতান্ত্রিক শাসন, আলোচনা এবং কূটনীতিতে বিশ্বাসী"। বৃহস্পতিবার ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে এই বার্তাই দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বর্তমানে টালমাটাল বিশ্বরাজনীতি। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সামরিক সংঘাত কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলা ভয়াবহ সংঘর্ষের আবহে প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের উপস্থিতিতে মোদি বলেন, “ভারত ও ফিনল্যান্ড উভয় রাষ্ট্রই আইনের শাসন এবং কূটনীতিতে বিশ্বাসী। ইউক্রেন হোক বা পশ্চিম এশিয়া- কেবল সামরিক লড়াই কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান আনতে পারে না। আমরা দুজনেই একমত যে, বর্তমান বিশ্বে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।”

গত সপ্তাহান্তে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই-র মৃত্যুর পর থেকেই কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে গোটা মধ্য এশিয়া। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার উপকূলে ইরানের নৌবাহিনীর জাহাজ ‘আইরিস ডেনা’র ওপর আছড়ে পড়ে ক্ষেপণাস্ত্র। ভয়াবহ এই হামলায় জাহাজটির কয়েক ডজন ক্রু সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।

ইরান প্রশাসনের দাবি, জাহাজটি ভারতের 'আমন্ত্রণে' যোগ দিতে এসছিল। এদিকে নয়াদিল্লি সূত্রে খবর, গত ১৬ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাহাজটি বিশাখাপত্তনমে ‘আন্তর্জাতিক ফ্লিট রিভিউ’-তে অংশ নিয়েছিল এবং সেই সময়টুকুই তারা ভারতের আতিথেয়তায় ছিল। এরপর ভারতের কাছে কোনও সহায়তার আবেদন জানানো হয়নি। উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে বিপুল হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “ইউক্রেন থেকে পশ্চিম এশিয়া- বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা চলছে। এমন এক টালমাটাল সময়ে ভারত ও ইউরোপীয় শক্তিগুলোর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক ‘স্বর্ণযুগ’ শুরু হতে চলেছে।”

সম্প্রতি সই হওয়া ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের ফলে ফিনল্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত আদানপ্রদান আরও গতি পাবে। ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও দুই দেশ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।