আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশে ফিরেই বিপত্তি৷ সুরাটে একই পরিবারের তিনজনের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার লালগেট এলাকার হরিপুরা এলাকায় নিজেদের ঘর থেকেই উদ্ধার হয় দম্পতি ও তাঁদের ১২ বছরের ছেলের দেহ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ঘরের ভিতরে বিষাক্ত গ্যাস নিশ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢুকে যাওয়ার ফলেই এই মর্মান্তিক পরিণতি।

সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, মৃতরা হলেন ফয়েজ আহমেদ (৪০), তাঁর স্ত্রী মুবিনা (৩৬) এবং তাঁদের নাবালক সন্তান নোমান। মাত্র এক সপ্তাহ আগেই সৌদি আরব থেকে উমরাহ সেরে ফিরেছিলেন তাঁরা। মঙ্গলবার সকালে দেহগুলি উদ্ধারের পর প্রথমে আত্মহত্যার কথা ভাবা হলেও, পুলিশি তদন্তে উঠে আসে অন্য এক কথা।

ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ রাঘব জৈন জানান, ঘরের দরজা খোলার পরেই তীব্র গ্যাসের গন্ধে কার্যত নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় হয় তদন্তকারীদের। দেহগুলি পড়ে ছিল বসবার ঘরে। প্রত্যেকের মুখ দিয়ে গ্যাঁজলা বেরোচ্ছিল। ওই ঘরে এসি যেমন ছিল, তেমনই ছিল গ্যাসের সংযোগও। পুলিশের সন্দেহ, কোনওভাবে গ্যাস লিক করে ঘরময় বিষাক্ত গ্যাসে ছেয়ে যায়।

পুলিশ কর্তার কথায়, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে গ্যাস লিকের কারণেই এই মৃত্যু। বিষ খেয়ে আত্মহত্যার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না, তবে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি দেখে একে দুর্ঘটনা বলেই মনে করা হচ্ছে।” বাড়ির অন্যান্য যন্ত্রপাতিতে কোনও ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে, চিকিৎসক সেজে চিকিৎসার নামে চরম প্রতারণা! এক ভুয়ো চিকিৎসকের দেওয়া ইঞ্জেকশনে প্রাণ হারালেন নভি মুম্বইয়ের ২১ বছর বয়সি এক তরুণী। অভিযুক্ত যুবক আদতে একটি বেসরকারি হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়। মর্মান্তিক এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ভাশি এলাকায়।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণীর নাম প্রচিতি ভিকুরাম ভুভাড়। পরিবার সূত্রে খবর, ঋতুচক্রের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্ত সন্দেশ যশবন্ত পাস্তে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে প্রচিতির বাড়িতে আসেন। তিনি দাবি করেন, তরুণী ‘পিসিওডি’(পলিসিস্টিক ওভারি)-তে আক্রান্ত। চিকিৎসার জন্য পাঁচটি ইঞ্জেকশন দিতে হবে জানিয়ে ১৫ হাজার টাকাও নেন ওই যুবক।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি তরুণীর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে দু’টি ইঞ্জেকশন দেন সন্দেশ। তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই প্রচিতি জ্ঞান হারান। অবস্থা বেগতিক দেখে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ও চিকিৎসার সরঞ্জাম ভর্তি ব্যাগটি তরুণীর বাবাকে দিয়ে লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা প্রচিতিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পরিবারের চাপে পড়ে শেষে নিজের অপরাধ কবুল করেন সন্দেশ। জানান, তিনি চিকিৎসক নন, আন্ধেরির একটি নার্সিং হোমের সামান্য ওয়ার্ড বয় মাত্র। ৬ ফেব্রুয়ারি তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে বাশি থানার পুলিশ। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুন ও প্রতারণার মামলা রুজু হয়েছে। তরুণীর শরীরে ঠিক কী ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।