আজকাল ওয়েবডেস্ক: পরীক্ষায় টুকলি রুখতে এ বার ময়দানে নামল ড্রোন। আর সেই ড্রোনের চোখেই ধরা পড়ল চাঞ্চল্যকর এক দৃশ্য। মহারাষ্ট্রের বিড জেলার এক কলেজে গণটোকাটুকির ছবি ধরা পড়েছে ড্রোনে। দেখা গিয়েছে, জানলায় ঝুলে ছেলেমেয়েদের হাতে টুকলির চিরকুট পৌঁছে দিচ্ছেন খোদ অভিভাবক ও আত্মীয়রাই। 

মঙ্গলবার ওই কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ইংরেজি পরীক্ষা ছিল। ড্রোনের ক্যামেরায় দেখা গিয়েছে, কলেজের চারপাশ ফাঁকা হওয়ার সুযোগ নিয়ে জানলার বাইরে ভিড় জমিয়েছেন পরিজনেরা। সেখান থেকেই চলছিল চিরকুট চালাচালি। তবে মাথার ওপর ড্রোন দেখেই চম্পট দেন তাঁরা। শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশে এই নজরদারি চালানো হচ্ছিল। গোটা ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই ছবি মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০১৫ সালের বিহারের সেই বহুল চর্চিত ঘটনার কথা। সে বারও এ ভাবেই জানলায় ঝুলে টুকলি দেওয়ার ছবি ভাইরাল হয়েছিল। সেই সময়ে ৫০০ জন পড়ুয়াকে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের এই ঘটনা আবারও বিহারের সেই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে উস্কে দিল৷ 

প্রসঙ্গত, পরীক্ষাতেও ব্যবহার করা হচ্ছে সবজান্তা এআই। নকলনবিশদের এটিই নাকি নতুন হাতিয়ার। টুকলিতেও এই প্রযুক্তির ব্যবহার রীতিমতো চিন্তা বাড়াচ্ছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের। 

রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মাধ্যমিক পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে ধরা পড়ার খবর সামনে এসেছে। হুগলিতেও এখনও পর্যন্ত তিনটি ঘটনা জানা গেছে। চুঁচুড়ার একটি নামী স্কুলে মোবাইল নিয়ে পরীক্ষা দিতে ঢুকেছিল পরীক্ষার্থী। ধরা পড়তেই তার পরীক্ষা বাতিল হয়। প্রথম দিন মোবাইল নিয়ে সেন্টারে ঢুকেছিল আরও এক পরীক্ষার্থী। তখনও পরীক্ষা শুরু না হওয়ায় তার পরীক্ষা বাতিল না হলেও, মোবাইল সিজ করা হয়। 

গত শনিবার এক পরীক্ষার্থী রীতিমতো মোবাইলে প্রশ্নের উত্তর বের করে পরীক্ষা দেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে। আজ মঙ্গলবার ভৌতবিজ্ঞান পরীক্ষার দিন হুগলির একটি গার্লস স্কুলে মোবাইল নিয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে ধরা পড়ে আরেক ছাত্রী।

কিন্তু মোবাইল নিয়ে কেন পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকছে পরীক্ষার্থীরা? 

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এআই টুলস ব্যবহার করে সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়। এআই সব জানে। তাই এখন আর চিরকুটে লিখে নিয়ে যাওয়ার হ্যাপা পোহাতে চাইছে না টুকলি করার প্রতি আগ্রহী পরীক্ষার্থীরা। 

মধ্যশিক্ষা পর্ষদ মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় যে নির্দেশিকা দেয় তাতে স্পষ্ট করে বলা থাকে, কোনও ইলেকট্রনিক গ্যাজেট, স্মার্ট ওয়াচ, মোবাইল ফোন নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করা যাবে না। কেউ প্রবেশ করে ধরা পড়লে তার পরীক্ষা বাতিল হবে। তার পরেও এআই সাহায্য নিয়ে পরীক্ষা দিতে ঝুঁকি নিচ্ছে পরীর্থীরা। আর চিন্তা বাড়াচ্ছে পর্ষদের। 

পরীক্ষা কেন্দ্রেও রয়েছে পুলিশ। পরীক্ষা হলে পরীক্ষক থাকা সত্ত্বেও কী করে মোবাইল নিয়ে ঢুকছে পরীক্ষার্থীরা, সেটাও ভাবনার। হুগলি জেলা মধ্য শিক্ষা পর্ষদের জয়েন্ট কনভেনার শুভেন্দু গড়াই জানিয়েছেন, সব পরীক্ষা কেন্দ্রেই কড়া নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা আছে। তারপরেও বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। নকল করা একটা অভ্যাস যেটা রয়েই গেছে। জানা মাত্র ধরা পড়লেই পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। আগামী দিতে আরও সতর্ক হতে হবে বলেই তাঁর মত।