আজকাল ওয়েবডেস্ক: পরীক্ষা দেওয়া আর হলো না। মঙ্গলবার সকালে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার পথে লোকাল ট্রেন থেকে পড়ে প্রাণ হারাল ১৮ বছরের এক কিশোর। মহারাষ্ট্রের থানে জেলায় এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। রেল পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত ছাত্রের নাম সোহম কাথরে।

পুলিশ জানিয়েছে, ডোম্বিবলির বাসিন্দা সোহম মঙ্গলবার সকালে সিএসএমটি-গামী একটি লোকাল ট্রেনে চড়ে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিল। অফিস টাইমের প্রবল ভিড়ে ট্রেনের দরজার পাদানিতে দাঁড়িয়ে ছিল সে। কালওয়া ও মুম্বই স্টেশনের মাঝামাঝি জায়গায় ভিড়ের চাপে আচমকাই হাত ফস্কে লাইন চ্যুত হয় সোহম। সরাসরি লাইনের ওপর আছড়ে পড়ে সে।

সকাল ১০টা নাগাদ রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে লাইনের ধারে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। থানে রেল পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মঙ্গলবার থেকেই মহারাষ্ট্রে দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা শুরু হয়েছে। কালওয়াতেই ছিল সোহমের পরীক্ষা কেন্দ্র। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই সব শেষ হয়ে গেল। পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ 

অন্যদিকে, চিকিৎসক সেজে চিকিৎসার নামে চরম প্রতারণা! এক ভুয়ো চিকিৎসকের দেওয়া ইঞ্জেকশনে প্রাণ হারালেন নভি মুম্বইয়ের ২১ বছর বয়সি এক তরুণী। অভিযুক্ত যুবক আদতে একটি বেসরকারি হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়। মর্মান্তিক এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ভাশি এলাকায়।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণীর নাম প্রচিতি ভিকুরাম ভুভাড়। পরিবার সূত্রে খবর, ঋতুচক্রের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্ত সন্দেশ যশবন্ত পাস্তে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে প্রচিতির বাড়িতে আসেন। তিনি দাবি করেন, তরুণী ‘পিসিওডি’(পলিসিস্টিক ওভারি)-তে আক্রান্ত। চিকিৎসার জন্য পাঁচটি ইঞ্জেকশন দিতে হবে জানিয়ে ১৫ হাজার টাকাও নেন ওই যুবক।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি তরুণীর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে দু’টি ইঞ্জেকশন দেন সন্দেশ। তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই প্রচিতি জ্ঞান হারান। অবস্থা বেগতিক দেখে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ও চিকিৎসার সরঞ্জাম ভর্তি ব্যাগটি তরুণীর বাবাকে দিয়ে লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা প্রচিতিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পরিবারের চাপে পড়ে শেষে নিজের অপরাধ কবুল করেন সন্দেশ। জানান, তিনি চিকিৎসক নন, আন্ধেরির একটি নার্সিং হোমের সামান্য ওয়ার্ড বয় মাত্র। ৬ ফেব্রুয়ারি তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে বাশি থানার পুলিশ। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুন ও প্রতারণার মামলা রুজু হয়েছে। তরুণীর শরীরে ঠিক কী ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।