ভারত সরকার ২০২৬ সালের জন্য পাসপোর্টের নতুন একগুচ্ছ নিয়মাবলী প্রকাশ করেছে, যা সারা দেশের আবেদনকারীদের জন্য আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজ, পোক্ত নিরাপত্তা এবং পরিষেবা প্রদানে গতি আনতে তৈরি করা হয়েছে। এই সংশোধিত নিয়মগুলি, যা ১৫ ফেব্রুয়ারির পর থেকে সম্পূর্ণরূপে কার্যকর হবে।
2
8
পাসপোর্ট প্রাপ্তি বা নবীকরণকে আরও দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি জালিয়াতি এবং অপ্রয়োজনীয় বিলম্বের সুযোগ কমানোর উদ্দেশ্যে নয়া নিয়ম প্রণীত। আবেদনকারীদের শেষ মুহূর্তের প্রত্যাখ্যান বা প্রক্রিয়াকরণের জটিলতা এড়াতে নতুন প্রয়োজনীয়তাগুলির সঙ্গে আগে থেকেই পরিচিত হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
3
8
সরলীকৃত নথি এবং দ্রুত যাচাইকরণ: নতুন কাঠামোর অধীনে, পাসপোর্ট আবেদনের জন্য গ্রহণযোগ্য নথিপত্রের তালিকা সহজ করা হয়েছে এবং কাগজপত্র কমানোর জন্য ডিজিটালাইজ করা হয়েছে। আধার এবং অন্যান্য সরকারি পরিচয়পত্রের মতো বাধ্যতামূলক প্রমাণপত্রগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা আবেদনকারীদের জন্য কম শংসাপত্র এবং পাসপোর্ট অফিসে কম পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা সহজ করে তুলবে।
4
8
তবে, কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে- অসম্পূর্ণ বা ভুল নথি-সহ জমা দেওয়া আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে, তাই অনলাইনে কাগজপত্র আপলোড করার সময় নির্ভুলতার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
5
8
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতিগুলির মধ্যে একটি হল পুলিশ যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার আমূল পরিবর্তন। ঐতিহ্যগতভাবে পাসপোর্ট প্রদানের অন্যতম দীর্ঘতম পর্যায় এই যাচাইকরণ, যা এখন মূলত ডিজিটাল চ্যানেলের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। সমন্বিত সিস্টেমের প্রবর্তনের ফলে অনেক ক্ষেত্রে পুলিশি যাচাই কয়েক সপ্তাহের পরিবর্তে কয়েক দিনের মধ্যেই সম্পন্ন করা যাবে। এর মধ্যে কিছু পরিস্থিতিতে পাসপোর্ট ইস্যু করার পরের যাচাইকরণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা প্রথমে পাসপোর্ট প্রেরণ এবং পরে যাচাই করার সুযোগ দেবে, ফলে আবেদনকারীদের জন্য পুরো সময়সীমাটি সুগম হবে।
6
8
অনলাইন সুবিধা এবং সহজলভ্যতা: আবেদন প্রক্রিয়াটিকেও অনেক বেশি ব্যবহারকারী-বান্ধব করা হয়েছে। সরকারের পাসপোর্ট পোর্টালটিকে উন্নত বৈশিষ্ট্য-সহ আপগ্রেড করা হয়েছে, যা আবেদনকারীদের কোনও মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই অনলাইনে ফর্ম পূরণ করতে, নথি আপলোড করতে এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় নির্ধারণ করতে অনুমতি দেয়। ডিজিটাল জমা এবং রিয়েল-টাইম বিজ্ঞপ্তির উপর অধিক জোর দেওয়ায়, আবেদনকারীরা সহজেই তাদের আবেদনের অবস্থা ট্র্যাক করতে পারবেন, যা এই প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত উদ্বেগ এবং অনিশ্চয়তা কমিয়ে দেবে।
7
8
নাবালকদের ক্ষেত্রে, পাসপোর্টের নিয়মাবলীতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে যাতে বাবা-মায়ের সম্মতি এবং ডিজিটাল জন্ম শংসাপত্র বা স্কুলের পরিচয়পত্র মসৃণভাবে গ্রহণ করা হয়, যা শিশুদের পাসপোর্ট ইস্যু করার সময় কমিয়ে দেবে।
8
8
এছাড়াও, সরকার দেশব্যাপী পাসপোর্ট কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে, যা ছোট শহর এবং গ্রামীণ এলাকায় পরিষেবাগুলিকে আরও সহজলভ্য করে তুলবে। ২০২৬ সালের পাসপোর্ট বিধিমালার মূল লক্ষ্য হল গতি, নিরাপত্তা এবং সুবিধার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা, যাতে আবেদনকারীরা আবেদন জমা দেওয়া থেকে শুরু করে পাসপোর্ট হাতে পাওয়া পর্যন্ত একটি মসৃণ অভিজ্ঞতা লাভ করেন। সম্ভাব্য আবেদনকারীদের নতুন নিয়মাবলী মেনে চলার জন্য ১৫ই ফেব্রুয়ারির শেষ তারিখের অনেক আগেই তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।