আজকাল ওয়েবডেস্ক: অনাড়ম্বর একটি গ্রাম। সেখানেই সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। উত্তরপ্রদেশের আউরাইয়া জেলার ওই গ্রাম এখন রহস্য আর গুজবের কেন্দ্রবিন্দু। এক তরুণীর হঠাৎ নিখোঁজ হওয়াকে কেন্দ্র করে সিঙ্গানপুর গ্রামে চরম শোরগোল। কিন্তু সেই রহস্যের জাল টপকে বড় হয়ে উঠছে কিছু অলৌকিক ঘটনা। কী সেই ঘটনা, যা ভাবিয়ে তুলছে পুলিশকেও।

পরিবার সূত্রে খবর, গত রবিবার রাতে নিজের ঘরেই ঘুমাতে গিয়েছিলেন ২০ বছরের ওই তরুণী। সোমবার সকালে মা তাঁকে ডাকতে গিয়ে দেখেন, মেয়ে ঘরে নেই। অথচ বিছানার ওপর পরিপাটি করে রাখা তাঁর গয়না আর পোশাক। আর ঠিক তার পাশেই পড়ে রয়েছে প্রায় পাঁচ ফুট লম্বা একটি সাপের খোলস।

এই খবর জানাজানি হতেই গ্রামজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। রটে যায়, ওই তরুণী আসলে এক ‘ইচ্ছাধারী নাগিন’। ঘরের কোণে সাপের গর্ত খুঁজে পাওয়ায় সেই জল্পনা আরও বাড়ে। আতঙ্কে ও বিস্ময়ে দিশেহারা পরিবারের দাবি, আগে ওই ঘরে সাপ দেখা গেলেও মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে এমন কিছুর যোগ থাকতে পারে, তা তাঁরা ভাবতেই পারছেন না।

তদন্তে নেমে অজিতমল সার্কেলের পুলিশ অফিসার মনোজ গঙ্গোয়ার জানান, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী মামলা রুজু করে তল্লাশি শুরু হয়েছে। তবে ‘ইচ্ছাধারী নাগিন’-এর তত্ত্বকে স্রেফ গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। তাঁদের প্রাথমিক অনুমান, তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতে বা নজর ঘোরাতেই কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বিছানায় সাপের খোলস রেখে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই পরিবারের মোবাইল ফোনগুলি পরীক্ষা করছে পুলিশ। কল রেকর্ড এবং ডিজিটাল তথ্যের মাধ্যমে তরুণীর হদিশ পাওয়ার চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে, চিকিৎসক সেজে চিকিৎসার নামে চরম প্রতারণা! এক ভুয়ো চিকিৎসকের দেওয়া ইঞ্জেকশনে প্রাণ হারালেন নভি মুম্বইয়ের ২১ বছর বয়সি এক তরুণী। অভিযুক্ত যুবক আদতে একটি বেসরকারি হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়। মর্মান্তিক এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ভাশি এলাকায়।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণীর নাম প্রচিতি ভিকুরাম ভুভাড়। পরিবার সূত্রে খবর, ঋতুচক্রের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্ত সন্দেশ যশবন্ত পাস্তে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে প্রচিতির বাড়িতে আসেন। তিনি দাবি করেন, তরুণী ‘পিসিওডি’(পলিসিস্টিক ওভারি)-তে আক্রান্ত। চিকিৎসার জন্য পাঁচটি ইঞ্জেকশন দিতে হবে জানিয়ে ১৫ হাজার টাকাও নেন ওই যুবক।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি তরুণীর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে দু’টি ইঞ্জেকশন দেন সন্দেশ। তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই প্রচিতি জ্ঞান হারান। অবস্থা বেগতিক দেখে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ও চিকিৎসার সরঞ্জাম ভর্তি ব্যাগটি তরুণীর বাবাকে দিয়ে লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা প্রচিতিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পরিবারের চাপে পড়ে শেষে নিজের অপরাধ কবুল করেন সন্দেশ। জানান, তিনি চিকিৎসক নন, আন্ধেরির একটি নার্সিং হোমের সামান্য ওয়ার্ড বয় মাত্র। ৬ ফেব্রুয়ারি তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে বাশি থানার পুলিশ। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুন ও প্রতারণার মামলা রুজু হয়েছে। তরুণীর শরীরে ঠিক কী ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।