লক্ষ্মীলাভের আশায় সোনায় বিনিয়োগ বাঙালির চিরকালীন পছন্দ। কিন্তু পকেটের ভার সামলে ঠিক কোন সময়ে সোনা কিনলে আখেরে লাভ হবে, তা নিয়ে দোলাচল থাকেই। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হুজুগে গা না ভাসিয়ে একটু মাথা খাটিয়ে কিনলেই সোনা হতে পারে আপনার সেরা সম্পদ।
2
7
বিয়ের মরশুম কিংবা অক্ষয় তৃতীয়া ও ধনতেরাসের মতো তিথিতে সোনার দোকানে ভিড় উপচে পড়ে। এই সময় চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সোনার দামও আকাশছোঁয়া থাকে। উল্টো দিকে, মে থেকে অগাস্ট মাস পর্যন্ত সাধারণত বড় কোনও উৎসব থাকে না। বাজারে সোনার চাহিদাও খানিকটা ঝিমিয়ে থাকে। বুদ্ধিমান ক্রেতারা এই ‘অফ-সিজন’ বা মন্দার সময়ই কেনাকাটা সেরে রাখেন।
3
7
সহজ অঙ্কে, শেয়ার বাজারের সঙ্গে সোনার দামের সম্পর্ক অনেকটাই আদায়-কাঁচকলায়। যখন সেনসেক্স বা নিফটি মুখ থুবড়ে পড়ে, লগ্নিকারীরা তখন নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনাকেই বেছে নেন। ফলে সোনার দাম বাড়তে থাকে। তাই শেয়ার বাজার যখন চাঙ্গা থাকে, তখন সোনায় লগ্নির সেরা সময়।
4
7
বিশ্ব বাজারে সোনার বেচাকেনা হয় ডলারে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার যখন শক্তিশালী হয়ে ওঠে, সোনার দাম তখন কিছুটা কম হওয়ার প্রবণতা দেখায়। তাই সংবাদপত্রের পাতায় ডলারের হারের দিকে নিয়মিত নজর রাখা জরুরি।
5
7
জিনিসপত্রের দাম যখন হু হু করে বাড়ে, তখন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠলেও সোনার জৌলুস বাড়ে। টাকার দাম কমলে সোনা তার মূল্য বজায় রাখে। তাই মুদ্রাস্ফীতির শুরুতে সোনা কিনে রাখা আগামীর জন্য রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।
6
7
ব্যাঙ্ক যখন ফিক্সড ডিপোজিটে সুদের হার কমিয়ে দেয়, তখন সঞ্চয়ের বিকল্প হিসেবে মানুষের প্রথম পছন্দ হয় সোনা। সুদের হার কমার ইঙ্গিত পাওয়া মাত্রই সোনা কেনা শুরু করলে আখেরে পকেট বাঁচবে আপনারই।
7
7
সোনা আজ কিনে কালই লাভ করার বস্তু নয়। যদি অন্তত ৫ থেকে ১০ বছরের লক্ষ্য নিয়ে এগোন, তবে বাজারের সামান্য ওঠানামা নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে বিনিয়োগ করা শুরু করে দিন। সময় যত গড়াবে, সোনার ঔজ্জ্বল্যও তত বাড়বে।