আবু হায়াত বিশ্বাস: লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনছে বিরোধী শিবির। কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলির তরফে এই প্রস্তাব আনার জন্য নোটিস জমা দেওয়া হয় মঙ্গলবার। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি ও ডিএমকে-সহ একাধিক বিরোধী দলের প্রায় ১২০ জন সাংসদের স্বাক্ষরিত এই নোটিস লোকসভা সচিবালয়ে জমা দেন কংগ্রেসের সাংসদ ও মুখ্য সচেতক কে সুরেশ। তবে এই নোটিসে তৃণমূল কোনও সাংসদ স্বাক্ষর করেননি। 

চলতি বাজেট অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও অন্যান্য বিরোধী নেতাদের বক্তব্য রাখতে না দেওয়া এবং আট জন সাংসদকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই এই পদক্ষেপ বলে জানানো হয়েছে। এদিকে, একটি সূত্রের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিসের ওপর আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত সংসদের কার্যবিবরিণীতে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। এমনিতেই চলতি অধিবেশন শেষ হওয়ার কথা ১৩ ফেব্রুয়ারি। ফলে এখনই আলোচনার সম্ভাবনা ক্ষীণ। সেক্ষেত্রে বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিন ৯ মার্চ, ওই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শুরু করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

বিরোধীদের অভিযোগ, স্পিকার হিসেবে ওম বিড়লা সংসদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং ধারাবাহিকভাবে বিরোধী কণ্ঠকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করছেন। তাদের দাবি, সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলের বক্তব্য রাখার অধিকার মৌলিক, অথচ সেই অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। বিশেষ করে ২ ফেব্রুয়ারি রাহুল গান্ধীকে বক্তব্য রাখতে না দেওয়ার ঘটনাকে ‘গুরুতর সংসদীয় রীতিভঙ্গ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, প্রায় ১২০ জন সাংসদ ইতিমধ্যেই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন। কংগ্রেস, ডিএমকে ও সমাজবাদী পার্টির পাশাপাশি আরও কয়েকটি বিরোধী দল এই উদ্যোগে সামিল হয়েছে। 

এদিকে, স্পিকার ওম বিড়লা নিজেই এই নোটিস পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেল উৎকল কুমার সিংকে। সূত্র অনুযায়ী, মঙ্গলবার স্পিকার সচিব জেনারেলকে নির্দেশ দেন যাতে নিয়ম অনুযায়ী নোটিসটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। লোকসভা সচিবালয় জানিয়েছে, বিষয়টি সংসদের বিধি ও প্রক্রিয়া অনুসারেই পরীক্ষা করা হবে। এদিন প্রথমে যে নোটিসটি জমা করা হয়েছিল, তাতে তারিখ সংক্রান্ত ত্রুটি নজরে আসার পরেই নতুন করে নোটিস জমা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। 

উল্লেখযোগ্যভাবে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে বক্তব্য রাখতে না দেওয়ার ঘটনার পর থেকেই লোকসভার কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে। গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অচলাবস্থা তৈরি হয় লোকসভায়। দফায় দফায় অধিবেশন মুলতুবি হয়েছে এবং বিরোধীরা লাগাতার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। বিরোধী শিবিরের মতে, স্পিকারের ভূমিকা পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ায় সংসদের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। যদিও মঙ্গলবার দুপুর ২ টোর পর থেকে কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে লোকসভায়। এদিকে জানা গিয়েছে, ওম বিড়লার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর স্বাক্ষর নেই। যদিও দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অনাস্থা প্রস্তাবের জন্য বিরোধী দলনেতার স্বাক্ষর থাকতেই হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। সংবিধান অনুযায়ী, লোকসভা স্পিকারকে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে হলে নির্দিষ্ট সংখ্যক সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন এবং সেই নোটিস স্পিকারের কাছে পেশ করতে হয়। এরপর নিয়ম মেনে তা গ্রহণযোগ্য কি না, তা যাচাই করা হয়। বর্তমান ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, অতীতেও লোকসভার স্পিকারকে অপসারণের জন্য চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কোনও বারই তা সফল হয়নি।অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের এই নোটিস প্রসঙ্গে বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, ‘যাদের বিবেক অপসারিত হয়েছে, তারাই দেশের সাংবিধানিক পদকে অপসারিত করতে চাইছে। এটি কেমন ধরনের চিন্তাভাবনা?’

‌‌