আজকাল ওয়েবডেস্ক: এক সাধারণ গৃহবধু থেকে সফল উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার এক অভাবনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নেহা মার্ডা নামক এক মহিলা। সম্প্রতি রিয়ালিটি শো 'শার্ক ট্যাঙ্ক ইন্ডিয়া'-তে হাজির হয়ে তিনি নিজের এই নতুন পথচলার কথা তুলে ধরেন। মূলত মা হওয়ার পর নিজের একটি ব্যক্তিগত শারীরিক সমস্যার প্রাত্যহিক সমাধান খুঁজতে গিয়েই এই অভিনব ব্যবসার পরিকল্পনা তাঁর মাথায় এসেছিল।
নেহা জানান, গর্ভাবস্থার পরবর্তী সময়ে তিনি শরীরের তীব্র দুর্গন্ধজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন, যা তাঁর আত্মবিশ্বাস অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছিল। বাজারে থাকা নামী-দামী কোনও অর্গানিক বা রাসায়নিক পণ্যই তাঁর এই সমস্যার সঠিক সমাধান করতে পারছিল না। এর পরেই তিনি সম্পূর্ণ ঘরোয়া উপায়ে সাধারণ ফটকিরির (Alum) ওপরে ভিত্তি করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও ব্যাকটেরিয়ারোধী একটি ক্রিস্টাল আন্ডারআর্ম রোল-অন তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন। স্বামী রাহুল এবং ভাইয়ের সঙ্গে দীর্ঘ তিন বছরের গবেষণার পর তাঁরা বাজারে নিয়ে আসেন 'ফিটকু' (Phitku) নামের এই বিশেষ ব্র্যান্ডটি। মাত্র ১০ টাকার ফটকিরি দিয়ে ঘরের কোণে শুরু হওয়া এই ব্যবসাই আজ প্রতি মাসে প্রায় ২ কোটি টাকা আয় করছে এবং মাত্র ১০ মাসেই এই ব্র্যান্ডের মোট আয় ১৪ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
ব্যবসার শুরুতে পণ্যটির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে ৯৯ টাকা রাখা হলেও পরবর্তীতে ফর্মুলেশন ও গুণগত মানের আধুনিকীকরণের কারণে এর দাম বাড়িয়ে ৯৯৯ টাকা করা হয়। হুট করে এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনা ও ট্রোলিংয়ের মুখেও পড়তে হয়েছিল নেহাকে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন যে ভারতীয় ক্রেতারা সাধারণ একটি ঘরোয়া উপাদানের পেছনে এত টাকা খরচ করবেন কি না। শার্ক ট্যাঙ্কের মঞ্চেও বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে পণ্যের দাম এবং কার্যকারিতা নিয়ে নানাবিধ কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। তবে সমস্ত প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ব্র্যান্ডটি ইতিমধ্যেই ২ লক্ষেরও বেশি গ্রাহক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। শেষ পর্যন্ত নেহার এই ব্যবসায়িক বুদ্ধি ও দৃঢ় আত্মবিশ্বাসে মুগ্ধ হয়ে ইনভেস্টর আমান গুপ্তা এবং অনুপম মিত্তাল যৌথভাবে ১% ইক্যুইটির বিনিময়ে ১.৮ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন, যা একজন সাধারণ মহিলা থেকে সফল কর্পোরেট লিডার হয়ে ওঠার লড়াইয়ে নেহাকে এক বিশাল জয় এনে দেয়।















