আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে পাকিস্তান যদি কোনও ধরনের দুঃসাহস দেখানোর চেষ্টা করে, তবে ভারতকে যেন ‘দুর্বল’ ভাবার ভুল তারা না করে—কেরলের মাটি থেকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে ঠিক এই ভাষাতেই কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। বৃহস্পতিবার কেরলের সৈনিক সম্মান সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির ফায়দা তুলে পাকিস্তান যদি ভারতের সীমান্তে কোনও  অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করে, তবে ভারতের জবাব হবে অভাবনীয় এবং চূড়ান্ত।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই বার্তার নেপথ্যে রয়েছে গত বছরের এক রক্তাক্ত স্মৃতি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ২০২৫ সালের সেই ভয়াবহ পহেলগাম হামলার এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে। গত বছর ২২ এপ্রিল পহেলগামে লস্কর জঙ্গিদের গুলিতে ২৫ জন পর্যটকের মৃত্যুর পর ভারত যে প্রত্যাঘাত করেছিল, ইতিহাসে তা ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পরিচিত। রাজনাথ সিং এদিন সেই অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে পাকিস্তানকে মনে করিয়ে দেন যে, মাত্র ২২ মিনিটের ঝোড়ো আক্রমণে ভারতের বীর সেনারা পাকিস্তানকে হাঁটু গেঁড়ে বসতে বাধ্য করেছিল। তিন দিনব্যাপী সেই অভিযানে পাকিস্তানের ভেতরে থাকা নয়টি জঙ্গি শিবির গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভারতের সেনারা এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছিল, যা এখনও মেরামত করে উঠতে পারেনি ইসলামাবাদ। মে মাসের ১০ তারিখ পাকিস্তান নিজে যুদ্ধবিরতির আর্জি জানালে তবেই সেই সংঘাত থেমেছিল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এদিন সাফ বলেন, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক বা বালাকোটের মতো অপারেশন সিঁদুর প্রমাণ করেছে যে ভারত এখন আর শুধু আত্মরক্ষায় বিশ্বাসী নয়, প্রয়োজনে ঘরের ভেতরে ঢুকে আঘাত করতেও জানে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই বক্তব্যের সময়টা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যখন ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতকে কেন্দ্র করে গোটা পশ্চিম এশিয়া জ্বলছে, অন্যদিকে তখন পাকিস্তানের অন্দরেও চরম অস্থিরতা। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডন’-এ দাবি করা হয়েছে যে ভারত নাকি কোনও  ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অপারেশন চালানোর পরিকল্পনা করছে। যদিও এর কোনও  প্রমাণ তারা দিতে পারেনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আসলে এই যুদ্ধে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি ইসলামাবাদকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সৌদি আরব যদি এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তবে পাকিস্তানকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। কিন্তু এই মুহূর্তে চরম আর্থিক সংকটে থাকা পাকিস্তানের পক্ষে কোনও  দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে জড়ানো কার্যত আত্মঘাতী। তার ওপর শিয়া প্রধান ইরানের বিরুদ্ধে গিয়ে ইজরায়েল বা সৌদির পক্ষ নেওয়াটা পাকিস্তানের নিজস্ব শিয়া জনসংখ্যার মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিতে পারে।

ধারণা করা হচ্ছে, এই জোড়া সংকট থেকে নজর ঘোরাতেই পাকিস্তান কোনও  ধরনের প্রক্সি যুদ্ধ বা সীমান্তে প্ররোচনামূলক কাজ করতে পারে—এই আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই রাজনাথ সিং আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে রাখলেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ এখনও শেষ হয়ে যায়নি, অর্থাৎ ভারত সবসময় সতর্ক এবং প্রয়োজনে ফের একইরকম কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছুপা হবে না। দেশের মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে মোদি সরকার যে কতটা সংকল্পবদ্ধ, রাজনাথের এই মন্তব্য যেন আরও একবার সেই বার্তাই বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিল। পাকিস্তানের বর্তমান টালমাটাল অর্থনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির মধ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই ‘ডিসিসিভ’ বা চূড়ান্ত আঘাতের হুঁশিয়ারি ইসলামাবাদের ওপর মানসিক চাপ যে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।