আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লিতে আইআরএস (IRS) অফিসারের মেধাবী মেয়েকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় শিউরে উঠছে গোটা দেশ। অভিযুক্ত যুবক রাহুল মীনাকে ইতিমধ্যেই দিল্লির দ্বারকা এলাকার একটি হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে এক ভয়ঙ্কর পরিকল্পনার কথা, যেখানে লালসা, অনলাইন গেমের নেশা এবং প্রতিহিংসা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার রাতে, যখন রাহুল রাজস্থানের আলওয়ারে তার এক বন্ধুর স্ত্রীকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। এরপর নিজের মোবাইল ফোন ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করে সেই টাকায় ৬ হাজার টাকা দিয়ে ক্যাব ভাড়া করে সে সোজা দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তার লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ দিল্লিতে তার প্রাক্তন নিয়োগকর্তা, অর্থাৎ সেই আইআরএস অফিসারের বাড়ি। রাহুল সেখানে প্রায় আট মাস পরিচারকের কাজ করেছিল, কিন্তু টাকা ধার করে শোধ না করার অভ্যাসের কারণে তাকে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। 

বুধবার ভোরে যখন গোটা শহর সবে জাগছে, ঠিক তখনই নিজের নারকীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে পৌঁছায় রাহুল। পরিবারের দৈনন্দিন রুটিন তার নখদর্পণে ছিল। সে জানত যে সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ বাড়ির কর্তাব্যক্তিরা জিমে যান। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ঠিক সেই সময়েই সে কলোনিতে প্রবেশ করে। জুতো রাখার র‍্যাকে লুকানো চাবি দিয়ে সে অনায়াসে বাড়িতে ঢোকে। তার মূল লক্ষ্য ছিল ছাদে পড়াশোনার ঘরটি, যেখানে বছর বাইশের তরুণী ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

আইআইটি দিল্লির স্নাতক এবং দ্বাদশ শ্রেণির অল ইন্ডিয়া টপার সেই মেধাবী ছাত্রী যখন পড়াশোনায় মগ্ন ছিলেন, তখনই রাহুল ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। বাধা দিলে একটি ল্যাম্প এবং ভারী বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে সংজ্ঞাহীন করে ফেলে সে। এরপর অচৈতন্য অবস্থাতেই মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়। তদন্তকারীদের মতে, রাহুলের মাথায় তখন শুধু পাশবিকতাই নয়, জেদ চেপে বসেছিল আলমারির লকার খোলার। কিন্তু লকারটি ছিল বায়োমেট্রিক সিস্টেমের। 

নিজের পরিকল্পনা সফল করতে রাহুল নিথর প্রায় মেয়েটিকে টেনে-হিঁচড়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে লকারের সামনে নিয়ে আসে। রক্তমাখা আঙুল দিয়ে বায়োমেট্রিক স্ক্যানার খোলার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। পুলিশের ধারণা, ততক্ষণে মেয়েটির মৃত্যু হয়েছিল বলেই সেন্সর তার আঙুলের ছাপ গ্রহণ করেনি। এরপর মরিয়া হয়ে স্ক্রু-ড্রাইভার দিয়ে লকার ভেঙে নগদ টাকা ও গয়না লুট করে সে। পালানোর আগে রক্তমাখা জামাকাপড় বদলে নিয়ে মেয়েটির ভাইয়ের ট্রাউজার এবং চটি পরে সে চম্পট দেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, রাহুলের এই অপরাধপ্রবণতার মূলে রয়েছে 'তিন পাত্তি'র মতো অনলাইন গেমিং অ্যাপের নেশা। এই নেশার টাকা জোগাতে সে যেমন ধারদেনা করত, তেমনই অপরাধের পথে পা বাড়াতেও দ্বিধা করত না। যদিও জেরায় সে দাবি করেছে তার মূল উদ্দেশ্য ছিল ডাকাতি, কিন্তু তদন্তকারীদের সন্দেহ, খুনের কয়েক ঘণ্টা আগেই অন্য এক মহিলাকে ধর্ষণের ইতিহাস এবং পুরনো আক্রোশ থেকেই সে এই নৃশংস কাণ্ড ঘটিয়েছে। প্রতিভাবান এক নৃত্যশিল্পী এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের অধিকারিণী এক তরুণীর জীবন এভাবেই এক নেশাগ্রস্ত ও বিকৃতমস্তিকের যুবকের হাতে শেষ হয়ে যাওয়ায় শোকের ছায়া নেমেছে দিল্লির ওই অভিজাত এলাকায়।