আজকাল ওয়েবডেস্ক: টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)-এর নাসিক ইউনিটে যৌন হেনস্থা এবং জোর করে  ধর্মান্তরকরণের যে অভিযোগ উঠেছিল, তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই সামনে আসছে একের পর এক হাড়হিম করা তথ্য। সম্প্রতি রাজ্য মহিলা কমিশনের সামনে বয়ান দিতে গিয়ে এক নির্যাতিতা যা জানিয়েছেন, তা শুনে রীতিমতো স্তম্ভিত তদন্তকারীরা। ওই মহিলার অভিযোগ অনুযায়ী, অফিসের কর্মপরিবেশ ছিল অত্যন্ত কদর্য। তিনি দাবি করেছেন, অফিসের ওয়াই-ফাই থেকে শুরু করে ইন্টারনাল নেটওয়ার্কের সমস্ত পাসওয়ার্ড রাখা হতো অত্যন্ত অশ্লীল ভাষায়। শুধু তাই নয়, হিন্দু কর্মীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে অত্যন্ত কুরুচিকর শব্দ ব্যবহার করে সেইসব পাসওয়ার্ড সেট করা হত বলে অভিযোগ উঠেছে।

মহিলা কমিশনের কাছে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে ওই নির্যাতিতা বলেন, ট্রেনিংয়ের দিনগুলো থেকেই তাঁকে ক্রমাগত মানসিক হেনস্থা এবং অশালীন আচরণের শিকার হতে হয়েছে। এই ঘটনায় তিনি সরাসরি রাজা মেমন নামে এক অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, রাজা এবং দানিশ নামে অপর এক অভিযুক্ত তাঁর ওপর অনলাইন নজরদারি চালাতেন এবং তাঁর চরিত্র নিয়ে কুরুচিকর গুজব রটিয়ে তাঁকে সামাজিকভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা করতেন। আশ্চর্যের বিষয় হল, বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও  সুরাহা পাননি ওই তরুণী, উল্টে তাঁর অভিযোগগুলিকে পাত্তাই দেওয়া হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।

নাসিকের এই বিপিও ইউনিটটি গত এপ্রিলের শুরুতে প্রথম শিরোনামে আসে, যখন এক মহিলা কর্মী দানিশ শেখ নামে এক সফটওয়্যার পেশাদারের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা ও ধর্মান্তরকরণের চেষ্টার অভিযোগ তোলেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরও বেশ কয়েকজন মহিলা কর্মী এগিয়ে এসে একই ধরনের ভয়ঙ্কর সব অভিযোগ আনতে শুরু করেন। তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই চক্রে দানিশ শেখের পাশাপাশি তৌসিফ আত্তার, রাজা মেমন, শাহরুখ কুরেশি, শফি শেখ, আসিফ আফতাব আনসারির মতো কর্মীরা যুক্ত ছিলেন। এমনকি এইচআর ম্যানেজার নিদা খানের বিরুদ্ধেও অভিযোগের আঙুল উঠেছে।

এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে সাতজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং টিসিএস কর্তৃপক্ষ তাঁদের প্রত্যেককে সাসপেন্ড করেছে। তবে গোটা বিষয়টি আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে কারণ এই মামলার সঙ্গে যুক্ত অপর এক মহিলা কর্মী বর্তমানে নিখোঁজ বলে জানা গেছে। গত বুধবার মহারাষ্ট্রের নাসিক আদালত মূল অভিযুক্ত দানিশ শেখের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। ৩১ বছর বয়সী এই সফটওয়্যার পেশাদার আপাতত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। এই মুহূর্তে গোটা ঘটনায় মোট ৯টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ খতিয়ে দেখছে যে এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের জাল কতদূর বিস্তৃত ছিল। একজন প্রথম সারির আইটি সংস্থার অন্দরে এমন অন্ধকার জগত কীভাবে দিনের পর দিন টিকে ছিল, তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।