আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরাখণ্ডের দেহরাদুনে এক কাশ্মীরি শাল বিক্রেতাকে নৃশংসভাবে মারধর করা হল। এই ঘটনায় রীতিমত উত্তাল পরিস্থিতি রাজ্যজুড়ে। অভিযোগে ৫০ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। পলাতক আরও এক অভিযুক্তের খোঁজে বর্তমানে তল্লাশি চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার দেহরাদুনের বিকাশনগর এলাকায় শাল বিক্রি করতে গিয়েছিলেন দানিশ (১৮) ও তাঁর ভাই তবিজ (১৭)। অভিযোগ, সেই সময় তাঁদের পথ আটকে পরিচয় জানতে চাওয়া হয় এবং আচমকাই চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। লোহার রড দিয়ে দানিশকে বেধড়ক মারা হয়েছে বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দেহরাদুনের পুলিশ সুপার অজয় সিং জানিয়েছেন, অভিযুক্তের নাম সঞ্জয় যাদব। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে কাশ্মীরি ছাত্র সংগঠনগুলি। সংগঠনের প্রতিনিধি নাসির খুয়ামি জানান, লোহার রডের আঘাতে দানিশের বাঁ হাত ভেঙে গিয়েছে এবং মাথায় গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উত্তরাখণ্ডের পুলিশ মহানির্দেশকের সঙ্গেও কথা বলেছেন তাঁরা।

ঘটনার গুরুত্ব বুঝে আসরে নেমেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। তিনি ফোন করেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামিকে। ফোনে ওই যুবকের ওপর হামলার ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ওমর। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীও তাঁকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, অপরাধীদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না এবং সেখানে থাকা কাশ্মীরিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে তাঁর সরকার।

অন্যদিকে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিনের পর দিন সহবাস। এমনকী বার বার গর্ভপাতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠল অন্ধ্রপ্রদেশের জনসেনা বিধায়ক আরাভা শ্রীধরের বিরুদ্ধে। যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রেলওয়ে কোডুরু কেন্দ্রের ওই বিধায়ক। বিধায়কের বিরুদ্ধে এহেন অভিযোগে চরম শোরগোল। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারিণী একজন সরকারি কর্মী। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তাঁর ওপর শ্রীধরের কুনজর পড়ে। শুরু হয় সহবাস। তাঁর দাবি, গাড়িতে করে নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রথমবার জোর করে শারীরিক সম্পর্ক করেন অভিযুক্ত বিধায়ক। মহিলার অভিযোগ, গত এক বছরে তাঁকে পাঁচ বার গর্ভপাত করাতে বাধ্য করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, একইসঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য তাঁর স্বামীকে ফোন করে বারবার হুমকি দেওয়া হত বলেও দাবি করেছেন তিনি।

ওই ভিডিওতে নির্যাতিতা বলেন, "ও বলেছিল গর্ভপাত করালে তবেই আমার পরিবার আর চাকরি বাঁচবে। আমি রাজি না হওয়ায় আমাকে ভয় দেখানো হয়। পরে আশ্বাস দেয় যে স্বামীকে ডিভোর্স দিলে ও আমাকে বিয়ে করবে।"

পাল্টা ভিডিও বার্তায় বিধায়ক শ্রীধর জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ভুয়ো ভিডিও ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, "আমি পবন কল্যাণের আদর্শে মানুষের কাজ করছি। আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এই চক্রান্ত।" তিনি আরও জানান যে, উল্টে গত ছ’মাস ধরে তিনিই হেনস্থার শিকার হচ্ছেন এবং এই নিয়ে তাঁর মা পুলিশে অভিযোগও জানিয়েছেন।

গোটা ঘটনায় পুলিশের তরফে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে অন্ধ্রপ্রদেশ মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন রায়পতি শৈলজা নিজে উদ্যোগী হয়ে অভিযোগকারিণী মহিলার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। বর্তমানে পুরো ঘটনার তদন্ত জারি রয়েছে।