আজকাল ওয়েবডেস্ক:  স্কুলের পাঠ্যবইয়ে বলিউড সঙ্গীত! সিনেমার জনপ্রিয় গান 'রিন্দ পোষ মাল' থেকে 'নিম্বুড়া নিম্বুড়া'। ওড়িশার সরকারি স্কুলের পাঠ্যবইয়ে ঠাঁই পাওয়ায় ইতিমধ্যেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দেশজুড়ে। সামনে এসেছে সরকারি স্কুলের এক চরম গাফিলতির ছবি। বিষয়টি সমাজমাধ্যমে আসতেই শুরু হয়েছে তুমুল সমালোচনা। নেটনাগরিকদের একাংশ যেমন বিষয়টি নিয়ে রসিকতায় মেতেছেন। তেমনই অন্য একটি অংশ রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন।

 

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনা একেবারেই কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। 'স্টেট কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং'-এর পাঠ্যবইগুলি নিয়ে স্ক্রুটিনি করতেই উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, বইগুলিতে ১,৬০০-রও বেশি ভুল রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভুল রয়েছে অষ্টম শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ে। যে সংখ্যাটি প্রায় ৭০৫। বইগুলিতে অসংখ্য ব্যাকরণগত ভুল। পাশাপাশি, বানানের ত্রুটি এবং ভুল তথ্যের ছড়াছড়ি বইয়ে।

 

পাঠ্যবইয়ে যেমন একদিকে পঞ্চম শ্রেণীর বইয়ে পাঠ্যবিষয় হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে বলিউডের বাণিজ্যিক গান। অন্যদিকে, কর্নাটক বিধানসভা ভবনের ছবিকে ওড়িশা বিধানসভা বলে চালানো হয়েছে। বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটনকে 'বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ পাইলট' হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে! কর্নাটকের হাম্পির ছবিকে ওড়িশার বিখ্যাত কোণারক সূর্য মন্দির বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

ঘটনাটি সামনে আসার পরই আপাতত ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে ওড়িশা সরকার। রাজ্যের স্কুল ও গণশিক্ষা মন্ত্রী নিত্যানন্দ গোণ্ড জানিয়েছেন, পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য দ্রুত সংশোধিত পাঠ্যবই সমস্ত সরকারি স্কুলে পাঠানো হবে।

 

মন্ত্রী বলেন, "পাঠ্যবইয়ের সমস্ত ভুলত্রুটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি স্বয়ং এই বিষয় নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন। তদন্তের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে এই চরম গাফিলতির জন্য দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কঠোর পদক্ষেপ করা হয়েছে।"

 

তিনি আরও জানান, যতদিন না নতুন সংশোধিত বই স্কুলে পৌঁছচ্ছে, ততদিন শিক্ষকেরা ক্লাসে পড়ানোর সময় এই ভুলগুলি নিজেরা সংশোধন করেই পড়ুয়াদের সঠিক তথ্যটি শেখাবেন। বই প্রকাশের আগে স্ক্রুটিনি বা বইয়ের মান কমার জরুরি প্রক্রিয়া কীভাবে এড়িয়ে যাওয়া যায়, তা নিয়ে এখন শিক্ষা মহলে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।