আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার হওয়া এই আলোচনায় আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে গৃহীত সাম্প্রতিক সমঝোতা এবং ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
কথোপকথনের সময় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং আগামী দিনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে জানান। প্রধানমন্ত্রী মোদি ওই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিরোধ ও সংঘাতের সমাধান কেবলমাত্র সংলাপ এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব পক্ষের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সমুদ্রপথে অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
এই ফোনালাপ এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর সাম্প্রতিক শান্তি-সমঝোতা কার্যকর রাখার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ভারত শুরু থেকেই সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে এসেছে এবং বারবার বলেছে, সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার পথই একমাত্র টেকসই সমাধান।
এদিকে, কয়েক দিন আগেই ইরানের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ইজরায়েল ও মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলায় খামেনি নিহত হন বলে ইরানের দাবি। তিনি টানা ৩৬ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
ভারত সরকার শেষকৃত্যে প্রধানমন্ত্রীকে না পাঠিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা এবং বিহারের রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল সৈয়দ আতা হাসনাইনকে মনোনীত করেছে। সরকারি সূত্রের দাবি, এই প্রতিনিধিদল ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের সূচনাপর্বে খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর শেষকৃত্যের সময়সূচি নিয়ে দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তা ছিল। ইসলামি রীতি অনুযায়ী সাধারণত মৃত্যুর পর দ্রুত দাফন সম্পন্ন করা হয়। তবে যুদ্ধ বা বিশেষ পরিস্থিতিতে সেই নিয়মে ব্যতিক্রম করার সুযোগ রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক বিবেচনায় শেষকৃত্যের তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী মোদি ও ইরানের প্রেসিডেন্টের এই ফোনালাপ পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় ভারতের সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকারই প্রতিফলন। ভারত একদিকে যেমন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে সব পক্ষকে সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়ে চলেছে।














