আজকাল ওয়েবডেস্ক: আইটি জায়ান্ট টিসিএস-এর নাসিক ইউনিটে জোর করে ধর্মান্তকরণের অভিযোগ ঘিরে যখন তোলপাড় চলছে, ঠিক সেই আবহেই মুম্বইয়ে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এল। প্রাক্তন মহিলা সহকর্মীদের অশ্লীল মেসেজ পাঠানো এবং ফোনে উত্যক্ত করার অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী আরশাদ সিদ্দিকি নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যিনি আরশাদের লালসার শিকার হওয়া চারজন মহিলার মধ্যে একজন।
অভিযুক্ত আরশাদ সিদ্দিকির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বেছে বেছে হিন্দু তরুণীদের ফোন নম্বর সংগ্রহ করতেন এবং তাঁদের ফোনে অশ্লীল ভিডিও ও কুরুচিকর মেসেজ পাঠাতেন। এমনকি ফোনে কথা বলার সময় তিনি সরাসরি জানাতেন যে তিনি হিন্দু মেয়েদের পছন্দ করেন। অভিযোগকারী তরুণী জানান, তিনি মুম্বইয়ের মহালক্ষ্মী এলাকায় একটি সংস্থায় টেলিকলার হিসেবে কাজ করার সময় আরশাদের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। যদিও কাজের বাইরে তাঁদের মধ্যে কোনও ব্যক্তিগত কথা হতো না, আরশাদ অফিসের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে ওই তরুণীসহ আরও বেশ কয়েকজন মহিলার নম্বর চুরি করেন বলে অভিযোগ।
তদন্তে উঠে আসা হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে দেখা গিয়েছে, আরশাদ ওই তরুণীকে পর্ন ভিডিও পাঠিয়ে তা দেখার জন্য জোর করতেন। তরুণী যখন নিজেকে হিন্দু পরিচয় দিয়ে তাঁকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন, তখন আরশাদ পাল্ট দাবি করেন যে তাঁর অনেক হিন্দু গার্লফ্রেন্ড রয়েছে। এমনকি তিনি অত্যন্ত ধৃষ্টতার সঙ্গে মন্তব্য করেন, "আজকাল হিন্দু মেয়েরাও মুসলিম ছেলেদেরই পছন্দ করে।" ওই তরুণীকে প্রভাবিত করার জন্য আরশাদ আরও বলতেন যে, তাঁকে বিয়ে করলে কখনও হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করতে হবে না বা মন্দিরে যেতে বাধা দেওয়া হবে না।
তরুণীর বাবা জানান, আরশাদ অফিস ছাড়ার পর ডেটা অপব্যবহার করে চারজন হিন্দু মহিলার নম্বর বের করেন এবং তাঁদের ওপর মানসিক ও যৌন হেনস্থা শুরু করেন। অভিযুক্ত যুবক সমাজবাদী পার্টির নেত্রী তথা কর্পোরেটর ইরাম সিদ্দিকির ভাইপো। তবে আরশাদের কাকা সাজিদ সিদ্দিকি জানিয়েছেন, আইন নিজের পথে চলবে এবং পুলিশকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাঁরা পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন। মুম্বইয়ের প্রাক্তন মেয়র কিশোরী পেডনেকর এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন যে, পুলিশ সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে অভিযুক্ত আরও বড় কোনও অপরাধ ঘটাতে পারত। বর্তমানে পুলিশ বাকি তিনজন মহিলার বয়ান রেকর্ড করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
















