চা খেয়ে ১০ টাকা ইউপিআই পেমেন্ট করেছেন। এনপিসিআই সেই লেনদেন প্রক্রিয়া শুরু করল। আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নিল। যাঁকে টাকা পাঠালেন তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে গেল।
2
15
গোটা প্রক্রিয়ার জন্য খরচ হয় প্রায় দু’টাকা। সেই টাকা প্রেরক এবং প্রাপক কারও থেকেই নেওয়া হয় না। খরচ করে ব্যাঙ্ক এনপিসিআই এবং ভারতীয় করদাতারা। ইউপিআই বিনামূল্য নয়, শুধু আপনার কাছে পরিষেবাটি ফ্রি। তাহলে সরকার প্রথমেই এই পরিষেবা বিনামূল্যে দিল কেন?
3
15
২০২০ সালের আগে ডিজিটাল পেমেন্টে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) বসানো হত। আপনি অনলাইনে কোনও টাকা কোনও ব্যবসায়ীকে পাঠালে ১.৫ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত এমডিআর দিতে হত ব্যবসায়ীদের।
4
15
কিন্তু পাড়ার ছোট দোকান চলে ৫ শতাংশ লাভে। সেই সব দোকান যদি এই এমডিআর দেয় তাহলে লাভ হবে কীভাবে? এই কথা ভেবে কেন্দ্র ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে ইউপিআই এবং রুপে-র উপর থেকে এমডিআর তুলে নেয়। ফল, দেশের ৮৪ শতাংশ খুচরো ডিজিটাল পেমেন্ট হয় ইউপিআইয়ের মাধ্যমে।
5
15
‘বিনামূল্যে’ ডিজিটাল পেমেন্টের আসল খরচ যতটা সহজ মনে হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। ইউপিআই ব্যবহারকারীর কাছ থেকে কোনও চার্জ না নিয়ে বছরে ৩০০ লক্ষ কোটির টাকার বেশি লেনদেন করে। এই পরিকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে খরচ হয়েচে গত চার বছরে ৮,২৭৬ কোটি টাকা। পুরোটাই হয় সরকারি ভর্তুকি এবং করদাতাদের তহবিলের মাধ্যমে।
6
15
বিনামূল্যে পরিষেবা দিয়ে ফোনপে, পেটিএম, গুগলপে-র মতো ফিনটেক সংস্থাগুলি কোটি কোটি টাকা উপার্জন করে কীভাবে? এই শূন্য-ফি মডেলটি গ্রাহক সংগ্রহের একটি বিশাল মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
7
15
আপনার লেনদেন হয় বিনামূল্যে, কিন্তু সেই লেনদেনের তথ্য অমূল্য। প্রতিটি লেনদেনের ধরন থেকে আপনার জীবনের প্রতিচ্ছবি তৈরি করে নেয় সংস্থাগুলি। আপনি কী খাচ্ছেন, কোথায় ঘুরতে যাচ্ছেন, কীভাবে বিল মেটাচ্ছেন, এমনকি মাসের কোন তারিখে আপনার টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে। সেই সব তথ্য থাকে সংস্থাগুলির কাছে।
8
15
গ্রাহকের লেনদেনের এই ডেটা বিশ্লেষণ করে, এই সংস্থাগুলো ঋণ এবং বীমার মতো উচ্চ-মার্জিনের আর্থিক পণ্য বিক্রি করার জন্য বিস্তারিত ক্রেডিট প্রোফাইল তৈরি করে। এমনকি যাঁরা কখনও ঋণ নেননি তাঁদেরও প্রোফাইল তৈরি করা হয়।
9
15
ফিনটেক সংস্থাগুলি এই তথ্যের ভিত্তিতে ঋণ সংস্থা, বিমা সংস্থা এবং মিউচুয়াল ফান্ড সংস্থাগুলিকে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয়। শর্ত, গ্রাহক প্রতি ঋণ থেকে ২.৫ থেকে ৪ শতাংশ কমিশন নেবে সংস্থাগুলি।
10
15
এছাড়াও, সাউন্ডবক্সের মতো হার্ডওয়্যার একটি উচ্চ-লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। পেটিএম এবং ফোনপে-র মতো সংস্থাগুলি এই বাক্স বিক্রি করে না। তাঁরা প্রতি মাসে ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় ভাড়া দেয়।
11
15
পেটিএমের ১.৩৭ কোটি এবং ফোনপে-র প্রায় ৯২ লক্ষ গ্রাহক রয়েছেন যাঁরা এই সাউন্ডবক্স ব্যবহার করেন। কিছু কোম্পানি এই ডিভাইসগুলো থেকে ৬০% পর্যন্ত আয় করছে কোনও বিশেষ খরচ না করেই।
12
15
ডিজিটাল বিপ্লব সত্ত্বেও, ২০২৬ সালে এই ইকোসিস্টেমটি বেশ কিছু বড় বাধার সম্মুখীন হবে। ছোট ব্যবসায়ীরা রুপে (RuPay) ক্রেডিট কার্ড লেনদেনের মাধ্যমে ফি ফিরে আসতে দেখছেন, যা তাদের দৈনিক লাভের ৪০% পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে।
13
15
উপরন্তু, বাজারের কেন্দ্রীকরণ একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওয়ালমার্টের সাহায্যপ্রাপ্ত ফোনপে ৪৮ শতাংশ এবং অ্যালফাবেটের গুগল পে ৩৫ শতাংশ ইউপিআই লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করে। দু’টি বিদেশি মালিকানাধীন সংস্থা ভারতের পেমেন্ট পরিকাঠামোর ৮৩% নিয়ন্ত্রণ করছে।
14
15
এনপিসিআই প্রস্তাব দিয়েছে যে, কোনও সংস্থার বাজারের উপর দখল ৩০ শতাংশের বেশি থাকতে পারবে না। এর সময়সীমা ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর অর্থ দুই সংস্থা নতুন গ্রাহক যোগ করতে পারবে না। যা কেউই চায় না।
15
15
ইউপিআই লেনদেনের পরিমাণ রেকর্ড ভাঙলেও, বাজারে নগদ টাকার পরিমাণ বেড়ে ৪০ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা থেকে বোঝা যায় যে জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও ডিজিটাল বিপ্লবের বাইরে রয়েই গিয়েছে।