আজকাল ওয়েবডেস্ক: অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সংক্রান্ত একটি মামলায় কংগ্রেস নেতা পবন খেরার আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে গুয়াহাটি হাইকোর্ট। আদালত খেরাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করায় তাঁর গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা গাঢ় হচ্ছে।
সিএনএন-নিউজ১৮ হাইকোর্টের সেই আদেশের কপি হাতে পেয়েছে। আদেশে আদালত উল্লেখ করেছে যে, খেরার বিরুদ্ধে জাল নথিপত্র বা দলিল রাখার একটি 'প্রাথমিক দৃষ্টিতে বিশ্বাসযোগ্য' অভিযোগ রয়েছে। এটি কেবল মানহানির মামলা নয়, যেমনটা খেরার আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন।
‘হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ অপরিহার্য’
আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, খেরা পুলিশি তদন্ত এড়িয়ে চলছিলেন। আদালত আরও বলেছে যে, এই কংগ্রেস নেতা যেসব নথিপত্রের ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছিলেন, সেগুলোর উৎস বা উৎসস্থল খুঁজে বের করার জন্য তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি।
আদালত আরও উল্লেখ করে যে, খেরার যেসব সহযোগী হয়তো ওই নথিপত্রগুলো সংগ্রহ করে তাঁকে সরবরাহ করেছিলেন, তাঁদের শনাক্ত করার জন্যও এই ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ "অপরিহার্য"।
‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হওয়ার যুক্তি, খারিজ করল আদালত
হাইকোর্ট খেরার আইনজীবীদের সেই যুক্তিও খারিজ করে দিয়েছে যে, এই মামলাটির প্রকৃতি মূলত রাজনৈতিক। আদালত পর্যবেক্ষণ করে বলেছে যে, অসমের মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী কোনও সক্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন। আদালত আরও মন্তব্য করে যে, যদি অভিযোগগুলো সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই আনা হতো, তবে হয়তো বিষয়টিকে ভিন্নভাবে বিবেচনা করা যেত।
আদালত আরও কঠোর মন্তব্য করে বলেছে যে, কেবল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে একজন "নির্দোষ ভদ্রমহিলাকে" অহেতুক বিতর্কের মধ্যে টেনে আনা হয়েছে।
দাবির সপক্ষে কোনও প্রমাণ নেই
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে যে, খেরা তাঁর উত্থাপিত অভিযোগগুলোর কোনওটিরই প্রমাণ করতে পারেননি। এর মধ্যে অন্যতম ছিল সেই অভিযোগটি, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে, রিনিকি ভূঁইয়া শর্মার কাছে একাধিক দেশের পাসপোর্ট রয়েছে।
আদালত আরও বলেছে যে, এমন কোনও তথ্য-প্রমাণ বা উপাদান পাওয়া যায়নি যা দেখে মনে হতে পারে যে, খেরাকে হয়রানি বা অপমান করার উদ্দেশ্যে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
মামলার পটভূমি
তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট পবন খেরাকে যে 'ট্রানজিট আগাম জামিন' মঞ্জুর করেছিল, সুপ্রিম কোর্ট তা স্থগিত করে দেয় এবং খেরাকে অসমের আদালতে গিয়ে আইনি প্রতিকার চাওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপরই খেরা গুয়াহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
খেরার বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলাটির সূত্রপাত হয় তাঁরই আনা কিছু অভিযোগ থেকে। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর একাধিক পাসপোর্ট ও বিদেশে বিপুল সম্পদের মালিকানা থাকার দাবি করেছিলেন। খেরার এই অভিযোগগুলোর প্রেক্ষিতেই শর্মা 'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা'-র বিভিন্ন ধারার অধীনে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন।
গুয়াহাটি হাইকোর্ট খেরার আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেওয়ায়, এখন মামলাটি তদন্তের পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করবে।
















