আজকাল ওয়েবডেস্ক: সবজি বয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা যে ঠেলাগাড়িতে, তা'ই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল তাঁর ‘অ্যাম্বুলেন্স’। গত শনিবার মধ্যপ্রদেশের সাগরে এক বৃদ্ধের জীবনসংগ্রামের এই করুণ ছবি নাড়িয়ে দিয়েছে সকলকে। যে গাড়িতে আলু-পটল সাজিয়ে দু’বেলা পেটের ভাত জোগাড় করেন পবন সাহু, সেই গাড়িই শেষমেশ তাঁর স্ত্রীর নিথর দেহের শয্যা হয়ে রইল।
পবন নিরক্ষর মানুষ। সরকারি দপ্তরের নম্বর তাঁর জানা নেই, নেই কোনও প্রভাব-প্রতিপত্তি। স্ত্রীর শরীর যখন খুব খারাপ হল, তিনি কেবল জানতেন হাতজোড় করে কাকুতি-মিনতি করতে। প্রতিবেশীদের দরজায় দরজায় ঘুরেছেন একটা অ্যাম্বুলেন্সের জন্য। অভিযোগ, কেউ একটা ফোন করার সাহায্যটুকুও করেননি।
মরিয়া পবন তখন নিজের সবজি ঠেলার গাড়িতেই স্ত্রীকে শুইয়ে দিলেন। আলু-টমেটোর জায়গায় তখন যন্ত্রণায় ছটফট করা তাঁর জীবনসঙ্গিনী। প্রাণপণ শক্তিতে সেই গাড়ি টেনে পবন যখন হাসপাতালের দিকে ছুটছেন, তখনই সব শেষ। পথেই মারা যান তাঁর স্ত্রী।
রাস্তার ওপর পড়ে রইল পবনের স্ত্রীর নিথর দেহ। পাশে অসহায় পবন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের ললিতপুরের বাসিন্দা পবন গত এক দশক ধরে সাগরে সবজি বিক্রি করে কোনওমতে সংসার চালাতেন। স্ত্রীর দীর্ঘদিনের অসুখে জমানো পুঁজি আগেই শেষ হয়েছিল। অ্যাম্বুলেন্স ডাকার ক্ষমতা বা জ্ঞান কোনওটাই তাঁর ছিল না।
স্ত্রীর মৃত্যুর পর রাস্তার মাঝেই কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধ পবন। সেই আর্তনাদ দেখে পথচারীদেরও চোখের জল বাঁধ মানেনি। পরে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহায়তায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিক মমতা তিমোরি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। কেন অ্যাম্বুলেন্স মিলল না, তা খতিয়ে দেখে পরিবারটিকে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
