আজকাল ওয়েবডেস্ক: ছত্তিশগড়ের শক্তি জেলায় মঙ্গলবার দুপুরে এক ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণে তছনছ হয়ে গেল বেদান্ত লিমিটেডের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ২০ জন গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষায়, মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল যেন কোনও শক্তিশালী মিসাইল এসে আছড়ে পড়েছে।
পুলিশ ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সিংহিতরাই গ্রামের ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দুপুর আড়াইটে নাগাদ যখন কাজ পুরোদমে চলছিল, তখনই বয়লার থেকে টারবাইনের দিকে উচ্চচাপের বাষ্প বহনকারী একটি পাইপ আচমকা ফেটে যায়। এর ফলে সৃষ্টি হয় এক প্রচণ্ড বিস্ফোরণের, যা মুহূর্তের মধ্যে আগুনের হলকায় বদলে যায়। সেই উত্তপ্ত বাষ্প ও আগুনের ঝাপটায় কর্মরত শ্রমিকরা মারাত্মকভাবে পুড়ে যান। শক্তি জেলার পুলিশ সুপার প্রফুল্ল ঠাকুর জানান, চারজন শ্রমিক ঘটনাস্থলেই মারা যান। উদ্ধারকাজ শুরু হওয়ার পর আহতদের নিকটবর্তী রায়গড় ও বিলাসপুর জেলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও কয়েকজনের মৃত্যু হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪-এ দাঁড়িয়েছে, যদিও কোম্পানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী এই সংখ্যা ১০। আহতদের মধ্যে অন্তত ৬ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই। তিনি মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন। একইসঙ্গে এই ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে তিনি বিলাসপুর ডিভিশনাল কমিশনারকে দিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের তরফে একটি ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তও শুরু হয়েছে।
বেদান্ত লিমিটেডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা মূলত তাদের একটি সাব-কন্ট্রাক্টর বা ঠিকাদারি সংস্থার অধীনে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে আহতদের সুচিকিৎসা প্রদান এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোই কোম্পানির প্রথম অগ্রাধিকার। উল্লেখ্য, ১২০০ মেগাওয়াটের এই তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পটি ২০০৯ সালে শুরু হয়েছিল, যা ২০২২ সালে বেদান্ত অধিগ্রহণ করে। গত বছর একটি ইউনিটে উৎপাদন শুরু হলেও দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ কাজ এখনও চলছিল। ঠিক কী কারণে উচ্চচাপের ওই পাইপটি লিক করল, তা নিয়ে বড়সড় নিরাপত্তা গাফিলতির প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দিনের শেষে একরাশ হাহাকার আর ধোঁয়াশা ছাড়া কারখানা চত্বরে আজ আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
















