আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিহারের রাজনীতিতে আজ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। সরকার গঠনের ২২ দিন পর বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী তাঁর মন্ত্রিসভার প্রথম বড়সড় সম্প্রসারণ ঘটালেন। পাটনার ঐতিহাসিক গান্ধী ময়দানে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মোট ৩২ জন নতুন মন্ত্রী শপথ গ্রহণ করলেন। তবে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় চমক ছিল বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা জেডিইউ (JD-U) সুপ্রিমো নীতীশ কুমারের পুত্র নিশান্ত কুমারের সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ এবং মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি।

এদিন রাজভবনের চৌহদ্দি পেরিয়ে গান্ধী ময়দানের খোলা মঞ্চে আয়োজিত এই মেগা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা এবং বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীনসহ এনডিএ জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব। রাজ্যপাল লেফট্যানেন্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) সৈয়দ আতা হাসনাইন নতুন মন্ত্রীদের পদ ও গোপনীয়তার শপথ বাক্য পাঠ করান। ভিড় সামলাতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পাঁচজন করে মন্ত্রীর একটি ছোট দল গঠন করে ব্যাচে ব্যাচে শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

এবারের মন্ত্রিসভায় ‘পরিবারতন্ত্র’ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। নীতীশ-পুত্র নিশান্ত কুমার ছাড়াও মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন আরএলএম (RLM) প্রধান উপেন্দ্র কুশওয়াহার পুত্র দীপক প্রকাশ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা হাম (HAM) প্রধান জিতন রাম মাঝির পুত্র সন্তোষ সুমন। প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরিদের এই বড় পদ পাওয়াকে আগামী দিনের নতুন নেতৃত্বের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। 

বিজেপি কোটা থেকে মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন বিজয় কুমার সিনহা, রাম কৃপাল যাদব, নীতীশ মিশ্র, দিলীপ জয়সওয়াল, শ্রেয়সী সিং এবং মিথিলেশ তিওয়ারির মতো হেভিওয়েট নেতারা। তবে মন্ত্রিসভায় জায়গা না পাওয়া নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মঙ্গল পাণ্ডেকে ঘিরে। অন্যদিকে, জেডিইউ কোটা থেকে নিশান্ত কুমার ছাড়াও শপথ নিয়েছেন শ্রবণ কুমার, অশোক চৌধুরী, মদন সাহানি, লেসি সিং এবং জামা খানের মতো বর্ষীয়ান ও পরিচিত মুখেরা। উল্লেখ্য, বিজয় কুমার চৌধুরী এবং বিজেন্দ্র যাদব আগেই মন্ত্রিসভায় শামিল হয়েছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্রাট চৌধুরীর এই নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পেছনে ছিল জাতপাত, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং জোটের সমীকরণ বজায় রাখার এক সূক্ষ্ম প্রচেষ্টা। একদিকে যেমন পুরনো অভিজ্ঞ মন্ত্রীদের ওপর ভরসা রাখা হয়েছে, তেমনই বেশ কিছু তরুণ ও নতুন মুখকে জায়গা দিয়ে এনডিএ জোট বিহারের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জমি শক্ত করতে চাইছে। রাজভবনের বাইরে আয়োজিত এই বিশাল অনুষ্ঠান মূলত লোকসভা নির্বাচনের আগে এনডিএ-র এক বিশাল শক্তিপ্রদর্শন হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।