এখন কম-বেশি প্রায় সব মানুষই কমবেশি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন। বাজার করা, অনলাইন শপিং, বিল পেমেন্ট বা জরুরি খরচ—সব ক্ষেত্রেই ক্রেডিট কার্ড খুব সুবিধাজনক।
2
10
অনেকের মনেই একটা প্রশ্ন থাকে, যদি কোনও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীর হঠাৎ মৃত্যু হয় এবং তাঁর কার্ডে অনেক টাকা বাকি থাকে, তাহলে সেই টাকা কে দেবে? পরিবারের উপর কি সেই দায় পড়ে? এই বিষয়ে অনেকেরই পরিষ্কার ধারণা নেই।
3
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রেডিট কার্ডের টাকা আসলে এক ধরনের ঋণ। তবে এটি ‘আনসিকিওর্ড লোন’, অর্থাৎ এই ঋণের জন্য কোনও সোনা, বাড়ি বা সম্পত্তি বন্ধক রাখা থাকে না। তাই সাধারণ অবস্থায় কার্ডধারীর মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিজের আয় থেকে সেই টাকা শোধ করতে বাধ্য করা যায় না।
4
10
তবে তার মানে এই নয় যে ব্যাঙ্ক পুরো বিষয়টি ভুলে যায়। প্রথমে ব্যাঙ্ক মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তি বা টাকার দিকে নজর দেয়। যেমন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা, ফিক্সড ডিপোজিট, বিনিয়োগ বা অন্য কোনও সম্পদ থাকলে সেখান থেকে বকেয়া টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হতে পারে।
5
10
ধরুন, কোনও ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তাঁর নামে কিছু সঞ্চয় বা সম্পত্তি রয়েছে। সেই সম্পত্তির অংশ থেকে ব্যাঙ্ক তাদের পাওনা চাইতে পারে। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত টাকা বা সঞ্চয় থেকে সাধারণত সেই টাকা নেওয়া যায় না।
6
10
তবে কয়েকটি ক্ষেত্রে নিয়ম আলাদা হতে পারে। যদি ক্রেডিট কার্ডটি জয়েন্ট অ্যাকাউন্টে থাকে বা অন্য কেউ গ্যারান্টার হন, তাহলে তাঁর উপর দায় আসতে পারে।
7
10
আবার অনেক সময় স্বামী-স্ত্রী একই কার্ড ব্যবহার করেন। সেই ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক অন্য ব্যবহারকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।
8
10
এছাড়া পরিবারের সদস্যদের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল দ্রুত ব্যাঙ্ককে মৃত্যুর খবর জানানো। অনেকেই দেরি করে জানান, ফলে সুদ বা লেট ফি বাড়তে থাকে। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডেথ সার্টিফিকেট জমা দিয়ে কার্ড বন্ধ করার আবেদন করা উচিত।
9
10
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, মৃত ব্যক্তির ফোন, ইমেল বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা ঠিক নয়। এতে পরে আইনি সমস্যা তৈরি হতে পারে। সব কিছু নিয়ম মেনে করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
10
10
পরিবারের কেউ ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে এই নিয়মগুলি আগে থেকেই জেনে রাখা ভাল। এতে হঠাৎ কঠিন পরিস্থিতি এলেও কী করতে হবে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি কম থাকবে।