আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে বিজেপি। এরপরই চর্চায় ভারত-বাংলাদেশে সীমান্ত দিয়ে‘পুশব্যাক’ ইস্যু। সীমান্ত দিয়ে জোর করে লোক পাঠানোর আশঙ্কা থেকে বুধবার মুখ খুলেছিলেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তাঁর হুঁশিয়ারি ছিল, প্রতিবেশী পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর যদি 'পুশব্যাক'-এর কোনও ঘটনা ঘটে, তবে বাংলাদেশ তার সমুচিত জবাব দেবে। এর পাল্টা, ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ভারত আশা করে যে- ঢাকা নাগরিকদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করবে, যাতে তাদের ফেরৎ পাঠানোর প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্নে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে।

বৃহস্পতিবার ভারত জানিয়েছে, 'পুশব্যাক' বা জোর করে ফেরৎ পাঠানোর আশঙ্কা নিয়ে বাংলাদেশ সম্প্রতি যেসব মন্তব্য করেছে, সেগুলোকে অবশ্যই ভারত থেকে নথিপত্রহীন বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রত্যাবাসন বা ফেরত পাঠানোর চলমান প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে বিচার করতে হবে।
বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানের মন্তব্যের জবাবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, "ভারত আশা করে যে ঢাকা নাগরিকদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করবে, যাতে তাদের ফেরৎ পাঠানোর প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্নে এগিয়ে যেতে পারে।"

সাপ্তাহিক সংবাদিক বৈঠকে সাংবাদিকদের জয়সওয়াল বলেন, "গত কয়েক দিন ধরে আমরা এ ধরনের মন্তব্য লক্ষ্য করছি। এই মন্তব্যগুলোকে অবশ্যই ভারত থেকে অবৈধ বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসনের মূল ইস্যুটির প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে। আর এর জন্য স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন।"
তিনি আরও জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের কাছে ২,৮৬০টিরও বেশি নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অনুরোধ বা আবেদন ঝুলে আছে। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলার ছাড়পত্রের অপেক্ষায় আছে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে।

বিদেশ সচিব রণধীর জয়সওয়াল বলেন, "আমরা আশা করি বাংলাদেশ নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করবে, যাতে অবৈধ অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে।"

উল্লেখ্য, 'পুশব্যক' সংক্রান্ত খলিলুর রহমানের সতর্কবাণী, প্রতিবেশী দেশের ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে শেয়ার করা হয়েছিল।

সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বিপুল বিজয় পেয়েছে। নির্বাচনী প্রচারের সময় এই দল বারবার অভিযোগ করেছিল যে, মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশ থেকে রাজ্যে ব্যাপক হারে অনুপ্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছে, যদিও তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদও এই ইস্যুতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যে বিজেপির নির্বাচনী জয়ের পর 'পুশব্যাক'-এর মতো কোনও ঘটনা ঘটবে না।

সাংবাদিকরা যখন জানতে চান যে, ভারত থেকে সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীদের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কোনও আশঙ্কা বাংলাদেশের আছে কি না, তখন সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, "আমি আশা করি এমন কোনও ঘটনা ঘটবে না।"

'পুশব্যাক' পরিভাষাটি সাধারণত আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীদের জোর করে ফেরৎ পাঠানোর ঘটনা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অন্যদিকে, গ্রহণকারী দেশগুলো প্রায়শই এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে 'পুশ-ইন' (জোর করে প্রবেশ করানো) হিসেবে অভিহিত করে থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এ ধরনের বিরোধ বা বিবাদ মূলত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সীমান্ত এলাকাতেই বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে। আহমেদ জানান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই মতবিনিময়টি এমন এক সময়ে হল, যখন দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। গত মাসে রহমান ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন। ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচনের পর বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ফের ক্ষমতায় আসার পর দুই পক্ষের মধ্যে এটিই ছিল প্রথম উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ।

২০২৪ সালের আগস্টে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি এবং অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান হিসেবে মহম্মদ ইউনূসের দায়িত্ব গ্রহণের সময়কালে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটেছিল।