'মেট গালা'য় বাংলার শোলা! আম্বানির আত্মীয় পরেছেন শোলার পোশাক, বিশ্বমঞ্চে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন
নিজস্ব সংবাদদাতা
৭ মে ২০২৬ ১৯ : ৩৭
শেয়ার করুন
1
12
মেট গালা ২০২৬— বিশ্বের সবচেয়ে ঝলমলে ফ্যাশন উৎসব। চোখধাঁধানো হীরে, বিতর্কিত পোশাকের ভিড়ে এ বছর নজর কাড়লেন এক ভারতীয়, দিয়া মেহতা জাটিয়া।
2
12
মুকেশ অম্বানীর পুত্রবধূ শ্লোকা মেহতার বোন দিয়া মেহতা জাটিয়া। আম্বানি পরিবারের সূত্রে নয়, মেট গালায় তিনি এসেছিলেন নিজের পরিচয়ে।
3
12
তাঁর পোশাকে ছিল বাঙালি শিল্পের ছোঁয়া৷ বাংলার শোলাকে তিনি পোশাকে শৈল্পিক ভাবে ব্যবহার করেছেন৷
4
12
দিয়া মেহতা জাটিয়া তিনি একজন পেশাদার ফ্যাশন কনসালট্যান্ট ও স্টাইলিস্ট— বিলাসবহুল ফ্যাশনের জগতে তিনি পরিচিত নাম।
5
12
তিনি মূলত অভিনব ডিজাইন করেন৷ তারকা নন, পর্দার আড়ালে কাজ করেন। বিভিন্ন লুক কিউরেট করেন, ডিজাইনের দিকনির্দেশনা দেন।
6
12
দিয়ার পোশাক ডিজাইন করেছিলেন মায়ুর গিরোত্রা। এই ডিজাইনার পোশাকে দুই ভিন্ন রাজ্যের দুটি বিপন্ন কারুশিল্পের মেলবন্ধন ঘটেছে৷
7
12
পোশাকের ভিত তৈরি হয়েছিল হাতির দাঁতের মতো সাদা, ফিলিগ্রি-ধরনের সূক্ষ্ম শীথ— শোলাপীঠ দিয়ে।
8
12
বাঙালি বিয়ের অপরিহার্য ‘টোপর’ ও ‘মুকুট’ যে শোলা থেকে গড়া হয়, সেই একই উপাদান এবার বিশ্বমঞ্চে পোশাকের ভিত৷ বিপন্ন এই কারুশিল্পকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরা হয়েছে৷
9
12
এর সঙ্গে মিশেছিল তামিলনাড়ুর বিখ্যাত কাঞ্জিভরম কাপড়— কাঞ্চিপুরমে তাঁতে বোনা। নরম শোলার সঙ্গে রেশমের সুদৃঢ় বুনন— এই বৈপরীত্যই গড়ে তুলেছে এক অনন্য ডিজাইন৷ পোশাকটি সম্পূর্ণ হাতে তৈরি।
10
12
মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, মালদা— বাংলার এই অঞ্চলগুলোর মালাকার সম্প্রদায় শতবর্ষ ধরে শোলা গাছের সাদা ভিতরের অংশ থেকে গড়ে আসছেন বিয়ের টোপর, পুজোর সাজ, প্রতিমার মুকুট।
11
12
আজকের যুগে এই শিল্প হারিয়ে যাওয়ার পথে— তরুণ প্রজন্ম পেশা বদলাচ্ছে, কাঁচামালের অভাব। সেই মৃত্যুমুখী কারুশিল্পই আজ মেট গালার মঞ্চে তৈরি করল বিস্ময়। দিয়া মেহতা জাটিয়ার এই অভিষেক শুধু এক ব্যক্তির নয়, এক বার্তার— ভারতের কারুশিল্প আজও জীবিত, এবং বিশ্বমঞ্চে এই কুটীরশিল্পই নান্দনিকতার পরিচয় দেয়৷
12
12
বাংলার একটি গ্রামের শোলা গাছ থেকে কাঞ্চিপুরমের তাঁত হয়ে নিউইয়র্কের রেড কার্পেট— এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে যা পৌঁছাল, তা শুধু একটি পোশাক নয়, ভারতের শিল্প-আত্মার এক উদযাপন।