আজকাল ওয়েবডেস্ক: এক বিস্ফোরক অভিযোগ উঠে এল ভারতের অন্যতম শীর্ষ আইটি সংস্থা ইনফোসিসের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, গত এক দশকে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের বেতন কাঠামোতে কোনও বড় পরিবর্তন আনেনি ইনফোসিস। এমনটাই পরিসংখ্যান উঠে এসেছে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। শুধু ইনফোসিস নয়, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের মতো অন্যান্য বড় আইটি সংস্থাও গত ১০ বছরে ফ্রেশারদের প্রাথমিক বেতন প্রায় একই রেখেছে বলে জানা গিয়েছে। ইনফোসিসে নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়া কর্মীদের বার্ষিক বেতন সাধারণত ৩ থেকে ৩.৫ লক্ষ টাকার মধ্যে থাকে। মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে চললেও এই বেতন বহু বছর ধরে অপরিবর্তিত থাকায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে কর্মীদের মধ্যে। নামকরা চাকরির প্ল্যাটফর্ম ইনডিড অনুসারে, ইনফোসিসে একজন সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারের গড় বেতন বছরে প্রায় ৩.৭ লক্ষ টাকা।
টেস্ট ইঞ্জিনিয়ারদের ক্ষেত্রে এই অঙ্কটা একটু বেশি, প্রায় ৪.৩ লক্ষ টাকা। তবে সফটওয়্যার ডেভেলপাররা তুলনামূলক বেশি উপার্জন করেন। তাঁদের বেতন ৬.৪ লক্ষ থেকে ৯.৫ লক্ষ টাকার মধ্যে হতে পারে। যা মূলত তাঁদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে। কর্মস্থলের শহরভেদেও বেতনের তারতম্য হতে দেখা যায় কর্মীদের মধ্যে। বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, পুণের মতো শহরে কিছুটা বেশি বেতন দেওয়া হয় কারণ সেখানে বসবাসের খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি। যদিও ইনফোসিসের প্রাথমিক বেতন তুলনামূলক কম, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কর্মীরা অভিজ্ঞতা অর্জন করলে তাঁদের বেতন বৃদ্ধি, বোনাস, স্টক অপশন এবং অন্যান্য সুবিধা পাওয়া যায়। এই অতিরিক্ত সুবিধাগুলির ফলে তাঁদের মোট উপার্জন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে সাহায্য করে। তবু, আইটি শিল্পে যখন ভারতীয় কোম্পানিগুলি বিশ্বে প্রসার লাভ করছে, সেই পরিস্থিতিতে ফ্রেশারদের ক্ষেত্রে এমন বেতন সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিভাবান তরুণদের আকৃষ্ট করতে ও বাজারে প্রতিযোগিতামূলক থাকতে সংস্থাগুলিকে তাঁদের ফ্রেশার বেতন নীতির পুনর্বিবেচনা করা উচিত। প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে থেকে কর্মীদের ওপর মানসিক চাপ যাতে না পড়ে সে কারণে এক নয়া ব্যবস্থা চালু করে ইনফোসিস। ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম আইটি পরিষেবা সংস্থা কর্মীদের অতিরিক্ত কাজ নিয়ে কড়া নজরদারি শুরু করেছে। সংস্থার নতুন অটোমেটেড সিস্টেম ৯ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের বেশি কাজ করলেই সেই কর্মীকে ইমেল করে সতর্ক করছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ইনফোসিস হাইব্রিড কর্মপদ্ধতি চালু করেছে। ৩.২৩ লক্ষ কর্মীর এই বিশাল কর্মীবাহিনী এখন মাসে কমপক্ষে ১০ দিন অফিসে আসার নির্দেশে কাজ করছেন। বাকি দিনগুলোতে তাঁরা ঘরে বসেই কাজ করেন। এই পরিস্থিতিতে ইনফোসিস একটি নতুন মনিটরিং সিস্টেম চালু করেছে, যা প্রতিদিনের কাজের সময় নজরদারি করে।
কোনও কর্মী প্রতিদিন ৯ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের বেশি কাজ করলে এই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ‘ট্রিগার’ জারি করে এবং সেই কর্মীকে এই বিষয়ে ইমেল করে জানানো হয়। ইমেলটিতে উল্লেখ থাকে ঐ কর্মীর মাসিক ‘রিমোট ওয়ার্ক’ দিবস, মোট কাজের সময় এবং দৈনিক গড় সময়ের বিস্তারিত হিসাব। ইমেলে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, “আমরা আপনার দায়বদ্ধতা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করি, তবে সুস্থ ও টেকসই কর্মজীবনের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ কাজ ও বিশ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” এই বার্তাটি কর্মীদের ‘ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালান্স’ বজায় রাখতে উৎসাহিত করছে। এটি বর্তমান সময়ে আইটি ক্ষেত্রের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রসারকে প্রতিফলিত করছে। এই নীতির মাধ্যমে ইনফোসিস মূলত একদিকে কর্মীদের অতিরিক্ত কাজ থেকে বিরত রাখতে চাইছে, অন্যদিকে রিমোট ওয়ার্কের ফলে কর্মীদের উপর বাড়তে থাকা চাপ এবং দীর্ঘসময়ে তার স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
















