আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সঙ্কট। এই অস্থির আবহের মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সফরে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের বাজারে পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ার ঠিক পরেই মোদির এই আবু ধাবি সফর ভারতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল৷ 

আবু ধাবিতে আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে মোদির বৈঠক হয়। জানা গিয়েছে, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। 

এই সফরেই এলপিজি এবং খনিজ তেলের ভাণ্ডার নিয়ে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে। এ ছাড়াও ভারতের পরিকাঠামো এবং ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। গুজরাটের ভাদিনারে একটি জাহাজ মেরামতি কেন্দ্র তৈরির বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।

আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যে আমিরশাহির ওপর ইরানের হামলার কড়া নিন্দা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে ইউএই ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য সহযোগী। সেখানে প্রায় ৪৫ লক্ষ ভারতীয় কাজ করেন। স্বাভাবিক ভাবেই মোদির এই সফরে তাঁদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

অন্য দিকে, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার আঁচ এবার এসে পড়েছে দেশের আমজনতার পকেটে। দীর্ঘ চার বছর পর শুক্রবার ১৫ মে থেকে খুচরো বাজারে লিটার প্রতি পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়াল কেন্দ্র। একই সঙ্গে সিএনজি-র দামও বেড়েছে ২ টাকা।

বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, আমিরশাহি সফর সেরে প্রধানমন্ত্রী যাবেন নেদারল্যান্ডসে। সেখান থেকে তাঁর গন্তব্য সুইডেন। সুইডিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পাশাপাশি একটি প্রথম সারির বাণিজ্যিক ফোরামেও বক্তব্য রাখবেন তিনি। এরপর সোমবার নরওয়েতে ভারত-নর্ডিক শিখর সম্মেলনে যোগ দেবেন মোদি। সফরের একদম শেষ পর্যায়ে মঙ্গলবার ইতালি গিয়ে সে দেশের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।