আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতি পশ্চিম এশিয়ায়। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাঝ আকাশে চক্কর কেটে ফিরতে হল ইন্ডিগোর বিমানকে। একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে তথ্য, শেষ মুহূর্তের আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার কারণে দিল্লি থেকে ম্যানচেস্টারগামী ইন্ডিগোর একটি বিমানকে মাঝ আকাশ থেকে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধাবস্থা শুরু হওয়ার পর, প্রথমবার ইন্ডিগোর ওই বিমান উড়ান শুরু করেছিল ব্রিটেনের উদ্দেশে। 

 ফ্লাইট ট্র্যাকিং পরিষেবা Flightradar24-এর তথ্য অনুসারে, নর্স দ্বারা পরিচালিত ইন্ডিগোর ফ্লাইট 6E33 ইথিওপিয়া এবং ইরিত্রিয়ার সীমান্তের কাছে ইউ-টার্ন নিয়ে ফের ফিরে আসছে দিল্লিতে।

বিমানটি সোমবার ভোরে ভারতের রাজধানী থেকে ব্রিটেনের উদ্দেশে পারি দেয়। ২৬শে ফেব্রুয়ারির পর ইন্ডিগোর প্রথম দিল্লি-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট ছিল। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে প্রাথমিকভাবে ওই বিমানটির মোত দূরত্ব ১১ ঘণ্টার মধ্যে অতিক্রম করার কথা। কিন্তু বিপত্তি ঘটে মাঝ রাস্তায়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং-এর তথ্য, পশ্চিম এশিয়ার সক্রিয় সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলি এড়াতে পরিকল্পিত রুটটি গ্রহণ করা সত্ত্বেও, বিমানটিকে মাঝ আকাশে চক্কর কাততে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। 

Flightradar24-এর মতে, এই অঞ্চলে ইরান-ইজরায়েল উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমার বেশিরভাগ অংশ বাইপাস করে বিমানটি এডেন উপসাগর এবং আফ্রিকার কিছু অংশের মধ্য দিয়ে একটি অন্য রাস্তা ধরে যাচ্ছিল গন্তব্যের দিকে।  পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন অংশে দ্রুত পরিবর্তনশীল আকাশসীমা বিধিনিষেধের প্রভাব তুলে ধরে, বিমানটি সক্রিয় সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলি সম্পূর্ণরূপে অতিক্রম করার পরেও গন্তব্যে পৌঁছতে পারেনি। 

সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের এক প্রতিবেদনে উল্লিখিত, ঘটনা প্রসঙ্গে, ইন্ডিগোর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, শেষ মুহূর্তে আকাশসীমা বিধিনিষেধ আরোপ করার পরে বিমান সংস্থাটিকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। তিনি বলেন, 'পশ্চিমএশিয়া এবং এর আশেপাশের পরিস্থিতির কারণে, আমাদের কিছু ফ্লাইট দীর্ঘ রুট নিতে পারে অথবা ডাইভারশনের সম্মুখীন হতে পারে। পশ্চিম এশিয়ার চলমান পরিস্থিতির কারণে শেষ মুহূর্তের আকাশসীমা বিধিনিষেধের কারণে দিল্লি থেকে ম্যানচেস্টারগামী আমাদের ফ্লাইট 6E 033 তার মূল স্থানে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।' 
 Flightradar24-এর ওয়েবসাইট অনুসারে, দিল্লি-ম্যানচেস্টার রুটের দূরত্ব প্রায় ৬৮২৯ কিলোমিটার, রুট এবং আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে গড়ে ফ্লাইট সময় প্রায় ১১ ঘন্টা।

অন্যদিকে, পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষিতে রাশিয়া দাবি করেছে যে আন্তর্জাতিক আইন কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে মস্কো আবারও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশের (পি-৫) শীর্ষ সম্মেলন ডাকার প্রস্তাব করেছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে যে বিশ্ব নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করতে পি-৫ দেশগুলির জরুরি বৈঠক প্রয়োজন। এই পাঁচটি দেশ হল— রাশিয়া, আমেরিকা, চিন, ফ্রান্স, এবং ব্রিটেন। 

এই ধরনের বৈঠকের প্রস্তাব প্রথম দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, কোভিড-১৯ মহামারির আগেই। মস্কোর মতে, বর্তমান আন্তর্জাতিক অস্থিরতার পরিস্থিতিতে সেই প্রস্তাব এখন আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। সরকারি  টেলিভিশন Rossiya TV-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেসকভ বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে বিশ্ব আইনি কাঠামো কার্যত ভেঙে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, “আমরা সবাই যা আন্তর্জাতিক আইন বলে জানতাম, তা হারিয়ে ফেলেছি। এখন কাউকে কীভাবে আন্তর্জাতিক আইনের নিয়ম মেনে চলতে বলা যাবে, সেটাই বোঝা কঠিন।”