আজকাল ওয়েবডেস্ক: চার ধাম যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাম কেদারনাথকে ঘিরে সামনে এল নতুন বিতর্ক। মন্দিরের কাছেই একটি তাঁবুর ভিতরে কয়েকজন যুবক মদ্যপান করছিলেন। সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষুব্ধ নেটিজেনরা। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ধর্মীয় স্থান কি তাহলে ধীরে ধীরে ‘পার্টি স্পট’-এ পরিণত হচ্ছে? 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে এক দল যুবক কেদারনাথ ধামের খুব কাছেই বসে তাঁবু গেরে বসে রয়েছেন। তাঁদের ব্যবহারের জিনিসপত্র, বালিশ, কাঁথা বা ব্যাগপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এদিক ওদিক। সেখানেই বসে আরাম করছেন যুবকেরা। সঙ্গে রয়েছে কিছু প্যাকেট জাতীয় খাবার, জলের বোতল, মদের বোতল এবং আরও নানান জিনিস। 

ভিডিও গ্রাহক আচমকাই তাঁবুর ভিতরে ঢুকতেই তাঁরা সকলেই সজাগ হয়ে যান। নিজেদের বোতল ও প্যাকেট জাতীয় খাবার ইত্যাদি জিনিসগুলি তৎপরতার সঙ্গে লুকিয়ে রাখতে চাইছে তারা। ভিডিওতে নিজের মুখ ঢাকার চেষ্টা করছে অনেকে। যাতে নিজের পরিচয় গোপনে থাকতে পারে। 

ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হতেই দ্রুত গতিতে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। নেটিজেনদের মধ্যে এই ঘটনা ঢি-ঢি ফেলে দিয়েছে। ব্যবহারকারীরা অনেকেই স্পষ্ট সমালোচনা করেছেন। তাঁদের কথায়, কেদারনাথের মতো এত পবিত্র ধামকে এভাবে অপবিত্র করার সমর্থক তাঁরা নন। 

এর আগে চার ধামযাত্রা চলাকালীন পুলিশ অন্য একটি তাঁবু থেকে উদ্ধার করেছিল নানান ধরণের আগ্নেয়াস্ত্র এবং অন্যান্য বিভিন্ন অস্ত্র শস্ত্র। যদিও কর্তৃপক্ষ এই দুই ঘটনাকে একই সূত্রে বাঁধছেন না। কিন্তু এই দুই ঘটনাক একই সূত্রে বাঁধতে সাধারণ মানুষ কোনও কসুর করছেন না। তাঁদের কাছে দুটো ঘটনাই ধামের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ করেছে। 

অনেক ভক্ত এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁদের কথায়, “বহু মানুষ সারাজীবন ধরে অপেক্ষা করেন চারধাম যাত্রার জন্য অপেক্ষা করেন। তাঁদের ভক্তিতে কোনও খাদ নেই। তাঁরা সারাজীবন ধরে এই কারণে অপেক্ষা করেন না, যে তাঁদের পবিত্র ধামে যুবকেরা এসে মদ খাবে বা সেখান থেকে আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যাবে বলে।”

কেউ কেউ লিখেছেন, “ধর্মীয় পর্যটন কিছু মানুষের কাছে বিনোদনের একটা মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের ভক্তি নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে এদের হাত কাঁপে না।” কেউ কেউ প্রশাসনের কাছে দাবি করেছেন, “শক্ত হাতে চেকিং হোক। মন্দিরের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে মন কোনও কিছুই যেন মন্দিরে প্রবেশ না করে।’  
কেউ কেউ কড়া কথায় লিখেছেন, ‘কেদারনাথ কোনও পার্টি করার জায়গা নয়।” কেউ কেউ আবার খুব সাধারণভাবেই লিখেছেন, “এসব ঘটনা হামেশাই ঘটে। এখন প্রচারের আলোতে এল এইটুকুই যা।” অনেকে ভিডিওতে দেখানো ঘটনার তদন্তের দাবি করেছেন কর্তৃপক্ষের কাছে।