আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার জেরে চাপে রয়েছে ভারতের বিমান সংস্থাগুলি। এই অবস্থায় বড় সিদ্ধান্ত নিল দিল্লি ও মহারাষ্ট্র সরকার। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানে ব্যবহার হওয়া জ্বালানি বা এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের (এটিএফ) উপর কর অনেকটাই কমানো হয়েছে। এর ফলে বিমান সংস্থাগুলির খরচ কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। 

দিল্লি সরকার ছ’মাসের জন্য এটিএফ-এর উপর মূল্য সংযোজন কর বা ভিএটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করেছে। মহারাষ্ট মুম্বইয়ে ডমেস্টিক বিমানের (দেশের মধ্যে যে বিমান ওড়ে) ক্ষেত্রে কর ১৮ শতাংশ থেকে সাত শতাংশে কমিয়ে এনেছে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দিল্লি ও মুম্বই দেশের সবচেয়ে বড় বিমান চলাচলের কেন্দ্র। সবচেয়ে বেশি যাত্রী ওঠানামা করে এই দুই শহরের বিমানবন্দরে। 

দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২০২৪-২৫-এ প্রায় আট কোটি যাত্রী ওঠা-নামা করেছে। মুম্বইতে সেই সংখ্যাটা প্রায় পাঁচ কোটি ৫৫ লক্ষ। ফলে এখানেই সবচেয়ে বেশি জ্বালানি লাগে। এদিকে বিমান পরিচালনার মূল খরচটাই হয়ে থাকে জ্বালানিতে। প্রায় ৫০ থকে ৬০ শতাংশ জ্বালানি খরচ হয়। তাই দেশে এই দুই জায়গায় কর কমলে বিমান সংস্থাগুলির বেশ কিছুটা টাকা বাঁচবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা।  

আমেরিকা ও ইরানের সংঘাত বাড়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে সমস্যা তৈরি হওয়ায় তেল সরবরাহে বিপুল প্রভাব পড়ে। এই পথ দিয়েই বিশ্বের অধিকাংশ তেল সরবরাহ করা হয়। ফলে বিমান সংস্থাগুলির খরচ বেড়ে গিয়েছে।  

ভারতের বিমান সংস্থাগুলি বহুদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছে যে বিমান জ্বালানিকে জিএসটি-র আওতায় আনা হোক। কারণ এখন বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন রকম কর নেওয়া হয়। এখনও তামিলনাড়ুতে সবচেয়ে বেশি, ২৯ শতাংশ ভিএটি নেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গে এই হার ২৫ শতাংশ। 

কর বেশি হওয়ায় অনেক সময় বিমান সংস্থাগুলি কম করের জায়গা থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি ভরে নেয়। যাতে অতিরিক্ত করের বিমানবন্দরে জ্বালানি কিনতে না হয়। এতে কিছু টাকা বাঁচলেও বিমানের ওজন বেড়ে যায় এবং বেশি জ্বালানি খরচ হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লি ও মুম্বইয়ে কর কমলে এই সমস্যা কিছুটা কমবে। 

এখন বিমান সংস্থাগুলি একসঙ্গে অনেক সমস্যার মুখে। তেলের দাম বাড়ছে, ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার দাম কমছে, বিমান ভাড়ার খরচও বাড়ছে, ইঞ্জিনের সমস্যা এবং নতুন বিমান আসতে দেরি হচ্ছে। সব মিলিয়ে বিমান সংস্থাগুলির উপরে চাপ বাড়ছে।

ইতিমধ্যেই তার প্রভাব দেখা গিয়েছে দেশের কয়েকটি বিমান সংস্থায়। এয়ার ইন্ডিয়া কয়েকটি আন্তর্জাতিক উড়ান বন্ধ করেছে। আবার কিছু রুটে উড়ানের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ইন্ডিগোর লভ্যাংশও অনেক কমেছে বলে জানা গিয়েছে। 

তবে বিমান সংস্থার কর কমলেও এখনই বিমানের টিকিট সস্তা হবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এখনও যাত্রীর সংখ্যা বেশি, কিন্তু বিমানের সংখ্যা কম। অনেক বিমান ইঞ্জিন সমস্যার জন্যও বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক অনেকে বিমান এখনও বন্ধ রয়েছে। ফলে টিকিটের দাম কমবে বলে মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, টিকিটের দাম কমাতে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত হওয়াও দরকার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।