আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (পিএনবি) জালিয়াতি মামলায় পলাতক হীরা ব্যবসায়ী মেহুল চোকসির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হওয়ার প্রায় আট বছর পর, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছে যে- তাঁর ছেলে রোহান চোকসিও অর্থ পাচারে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। ইডি, দিল্লির আপিল ট্রাইব্যুনালের সামনে এই দাবি করেছে।

তবে, রোহান চোকসির নাম কোনও এফআইআর-এ ছিল না। এমনকী সিবিআই বা ইডি-র দায়ের করা কোনও অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ) মামলায়ও রোহান চোকসিকে অভিযুক্তও করা হয়নি।

ট্রাইব্যুনালের কাছে লিখিত আবেদনে তদন্তকারী সংস্থাটি বলেছে যে, মেহুল চোকসি এমন কয়েকটি কোম্পানির পরিচালক ছিলেন যেগুলোর অস্তিত্ব কেবল কাগজে-কলমেই ছিল। কেন্দ্রীয় আর্থিক তদন্তকারী সংস্থাটির মতে, কোনও প্রকৃত পণ্য কেনা-বেচা ছাড়াই কাল্পনিক লেনদেন দেখানো এবং অপরাধ জনিত অর্থ পাচারের জন্য এই ভুয়ো কোম্পানিগুলো তৈরি করা হয়েছিল।

ইডি ট্রাইব্যুনালকে আরও জানিয়েছে যে, রোহান চোকসি লাস্টার ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাইভেট লিমিটেড নামে আরেকটি কোম্পানির ৯৯.৯৯ শতাংশ শেয়ারের মালিক, যেখানে মেহুল চোকসি একজন পরিচালক। তদন্তে জানা গিয়েছে যে, এই কোম্পানিটি বিদেশে তহবিল সরানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল।

ইডি-র মতে, তদন্তে আরও দেখা গিয়েছে যে- এশিয়ান ডায়মন্ড অ্যান্ড জুয়েলারি এফজেডই থেকে সিঙ্গাপুর-ভিত্তিক মার্লিন লাক্সারি গ্রুপ প্রাইভেট লিমিটেডে ১,২৭,৫০০ মার্কিন ডলার (প্রায় ৮১.৬ লক্ষ টাকা) স্থানান্তরিত হয়েছিল। ইডি দাবি করেছে যে, এশিয়ান ডায়মন্ড অ্যান্ড জুয়েলারি এফজেডই সরাসরি এই কোম্পানিতে অপরাধ জনিত অর্থ স্থানান্তর করেছে।

সংস্থাটি ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছে যে, সিঙ্গাপুর-ভিত্তিক মার্লিন লাক্সারি গ্রুপও মেহুল চোকসির নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং এটা লাস্টার ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। তাই, সংস্থাটি যুক্তি দিয়েছে যে- যেহেতু রোহান চোকসি এই কোম্পানির ৯৯.৯৯ শতাংশ শেয়ারের মালিক, তাই তিনি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হওয়া থেকে বাঁচতে পারেন না।

এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট দাবি করেছে যে, নথিতে থাকা সমস্ত তথ্য ও প্রমাণ স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে- রোহান চোকসি তাঁর বাবার সঙ্গে অর্থ পাচারের অপরাধে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। এই ভিত্তিতে, সংস্থাটি রোহান চোকসির সঙ্গে যুক্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার যৌক্তিকতা প্রমাণ করেছে।

ইডি-র এই সর্বশেষ দাবিটি আবারও এই প্রশ্ন তুলেছে যে, সংস্থাটি এখন তদন্তের পরিধি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দিকে প্রসারিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কিনা। সিবিআই এবং ইডি উভয় সংস্থার তদন্তাধীন এই কেলেঙ্কারির প্রধান অভিযুক্ত হলেন মেহুল চোকসি এবং তাঁর ভাগ্নে নীরব মোদি। অভিযোগ, মেহুল ও নীরব মুম্বইয়ের ব্র্যাডি হাউস শাখার কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (পিএনবি) থেকে লেটার অফ আন্ডারটেকিং এবং ফরেন লেটার অফ ক্রেডিটের মাধ্যমে ১৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

পিএনবি-তে ১৩,০০০ কোটি টাকার জালিয়াতি ধরা পড়ার কয়েক দিন আগে, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে চোকসি ভারত ছেড়ে পালিয়ে যান। তিনি এখন বেলজিয়ামে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার মুখোমুখি। অন্যদিকে নীরব মোদি লন্ডনের একটি কারাগারে বন্দি আছেন।