আজকাল ওয়েবডেস্ক: ম্যাঙ্গালোর থেকে এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও লজ্জাজনক অভিযোগ সামনে এসেছে, যা খোদ পুলিশের মানবিকতা এবং নৈতিকতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। দক্ষিণ কন্নড় জেলার মুদাবিদ্রি থানার ইন্সপেক্টর সন্দেশ পি.জি.-র বিরুদ্ধে এক মহিলা গুরুতর যৌন হেনস্থা ও তোলাবাজির অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগকারিণীর দাবি, নিজের স্বামীর মুক্তির আবেদন নিয়ে থানায় গেলে ওই পুলিশ আধিকারিক তাকে বিছানায় যাওয়ার কুপ্রস্তাব দেন।
পুরো ঘটনার সূত্রপাত মহিলার স্বামীর গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে। অভিযোগকারিণীর মতে, তার স্বামীকে একটি মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। স্বামীকে ছাড়িয়ে আনার জন্য তিনি যখন থানায় ইন্সপেক্টর সন্দেশের দ্বারস্থ হন, তখন ওই আধিকারিক তার কাছে ২৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ। মহিলা জানান, যখন তিনি অত টাকা দিতে অসমর্থ বলে জানান, তখন ইন্সপেক্টর তাকে সরাসরি যৌন হেনস্থা করেন এবং বলেন যে টাকা দিতে না পারলে তাকে শারীরিক লালসা মেটাতে হবে।
এখানেই শেষ নয়, ওই মহিলা আরও অভিযোগ করেছেন যে সন্দেশ তাকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, তিনি নিজে ৫০ লক্ষ টাকা দিয়ে এই পোস্টিং পেয়েছেন, তাই টাকা তাকে তুলতেই হবে। কথা না শুনলে তার স্বামীর নামে 'রাউডি শিট' বা দাগি অপরাধীর তকমা সেঁটে দেওয়ার ভয়ও দেখানো হয়। এমনকি ওই পুলিশ আধিকারিক দম্ভের সাথে দাবি করেন যে, এর আগে অনেক মহিলাই তার সাথে এভাবে 'সহযোগিতা' করেছেন। যদি তিনি রাজি না হন, তবে মাদক কারবারিদের মাধ্যমে তার মান-সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কর্ণাটক রাজ্য মহিলা কমিশন নড়েচড়ে বসেছে। একটি কন্নড় নিউজ চ্যানেলে এই খবরটি সম্প্রচারিত হওয়ার পর কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ম্যাঙ্গালোর সিটি পুলিশের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে। আক্রান্ত মহিলা দমে না গিয়ে কর্ণাটকের মুখ্য সচিব শালিনী রজনীশ, পুলিশ ডিরেক্টর জেনারেল এম.এ. সালিম এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি. পরমেশ্বরের কাছেও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। প্রমাণের সপক্ষে তিনি প্রায় ২৫০টি অডিও ও ভিডিও ক্লিপ সম্বলিত একটি সিডি জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
তদন্তে আরও এক ভয়ানক তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগকারিণী একা নন, আরও অন্তত তিনজন মহিলা সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে ওই একই পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে একই ধরণের হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন। অন্য এক মহিলার দাবি, তার স্বামী ওই ইন্সপেক্টরের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে কাজ করতেন এবং সেই সূত্রে তাদের গোটা পরিবারকে চরম হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে।
রাজ্য মহিলা কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, এই অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা ক্ষমতার চরম অপব্যবহার এবং কর্তব্যে গাফিলতির এক নজিরবিহীন উদাহরণ হবে। যদিও আক্রান্ত মহিলার অভিযোগ, উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের একাংশের মদত থাকায় ওই ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে এখনো কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে পুলিশ কমিশনারকে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রক্ষকই যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জায়গা কোথায়—এই প্রশ্নই এখন কর্ণাটকের জনমানসে ঘুরপাক খাচ্ছে।















