আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের এক ব্যস্ত শহুরে রাস্তায় হঠাৎই ট্রেনের হর্নের আওয়াজ পাওয়া গেল। মানুষজন ভয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেলেন। পথচলতি মানুষেরা আশেপাশের দোকানগুলিতে ঢুকে পড়লেন। সকলেরই কৌতুহল দৃষ্টি খুঁজে চলেছে শহরের রাস্তার মাঝখানে হঠাৎ করে ট্রেন এল কোথা থেকে! দেখা গেল, এক যুবক তাঁর বাইকে ট্রেনের হর্ন লাগিয়ে রাস্তায় ঘুরে বেরাচ্ছেন। 

এই রকম এক আশ্চর্য ঘটনার ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। ব্যস্ত রাস্তার মাঝে এক যুবক বাইক চালাচ্ছেন। তিনি হর্ন দিলে ট্রেনের হর্নের আওয়াজ বের হচ্ছে। এই ঘটনা দেখে নেটিজেনের একাংশ মজা পেয়েছেন। তাঁদের কথায়, “ভাই বোধ হয় পছন্দ করে না রাস্তায় কোনও মানুষ থাকুক। তাই এমন হর্ন লাগিয়েছে। সকলে এই আওয়াজের ভয়ে দু’ধারে পালিয়ে যাবেন, আর ভাই আমাদের রাজার মতো ফাঁকা রাস্তায় গাড়ি চালাবেন।”

বহু মানুষ হাসির খোরাক হিসাবে দৃশ্যটিকে গন্য করলেও অনেকেই এই ঘটনাকে দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো কাজ বলেও মনে করেছেন। তাঁদের কথায়, “এ আবার কেমন অসভ্যতা! কাণ্ডজ্ঞান নেই? এভাবে কেউ রাস্তায় অসভ্যতা করে?” কেউ কেউ সরাসরি মন্তব্য করেছেন, “এটা মোটেই হাসির বিষয় নয়। এভাবে রাস্তায় প্যানিক তৈরি করার কোনও মানে হয় না। বড় কোনও বিপদ হতে পারত তো।” দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও অনেকেই করেছেন। 

তবে এই ঘটিনা দ্রুত পুলিশের নজরে পড়ে। যুবককে আটক করে তাঁর বাইকটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। এক পুলিশকর্তা জানিয়েছেন, “এই হর্ন এভাবে ব্যবহার করা বেআইনি। মানুষের প্রাণের ঝুঁকি তৈরি হয় এর ফলে। এমন কোনও পদক্ষেপ বা ব্যবহার আমরা মোটেই মেনে নেব না।” 

এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিতর্ক তৈরি করেছে। অনেকের মতে এটা সাধরণ ছেলেমানুষি, এই ঘটনাকে এত আমল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, ‘সরে যাও সরে যাও, লোকাল এক্সপ্রেস আসছে।’ বহু মানুষ হাসাহাসি করছেন। 

অনেকেই এই ঘটনায় পুলিশি পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের কথায়, ‘পুলিশকে কুর্নিশ। এরকম কোনও ঘটনাকেই একদম প্রশ্রয় দেওয়া উচিৎ না। মানুষ তাহলে আরও নানা ধরণের বেআইনি কাজ করার স্পর্ধা পেয়ে যাবে।’ কেউ কেউ লিখেছেন, ‘রাস্তাটা ভেল্কিবাজি করার জায়গা না।’

অনেকে ওই যুবকের বাবা-মাকেও দোষ দিয়েছেন, ‘বাবা-মায়েরা দেখেন না নিজের সন্তান কী করছে!’ কেউ কেউ সহজ করে লিখেছেন, ‘আজকালছেলেমেয়েরা, সোশ্যাল মিডিয়ায় নজর কাড়ার জন্য এমন অনেক কিছুই করে থাকেন। এখন তো নতুন ধরণের হর্ন ব্যবহার করা ভারতের নতুন সময় কাটানোর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’