আজকাল ওয়েবডেস্কঃ  সিবিএসই-র দ্বাদশের পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রশ্নচিহ্নের মুখে। সম্প্রতি সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন -এর দ্বাদশের ফল ঘোষণার পরেই শুরু হয়েছে জোর তরজা। 'ওএসএম' পদ্ধতিতে পরীক্ষার্থীদের খাতা মূল্যায়নে ত্রুটি এবং গরমিল নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দানা বেঁধেছে তীব্র অসন্তোষের জেরে বোর্ড খাতা পুনর্মূল্যায়ন বা রিভিউ এবং সংশোধনের সুযোগ দিয়েছে। এ বার পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য আরও কিছুটা বড়সড় স্বস্তির খবর দিল বোর্ড। পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়ন, নম্বর যাচাই এবং উত্তরপত্রের স্ক্যান কপি পাওয়ার খরচ এক ধাক্কায় অনেকটাই কমানোর কথা ঘোষণা করেছে বোর্ড। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, স্ক্রুটিনি বা পুনর্মূল্যায়নের পর যদি কোনও পরীক্ষার্থীদের নম্বর বাড়ে, তবে তাঁর জমা দেওয়া ফি সম্পূর্ণ ফেরত দেওয়া হবে।

 

সম্প্রতি দ্বাদশ শ্রেণীর ফলাফল ঘোষণার পর বোর্ডের অন স্ক্রিন মার্কিং বা ওএসএম মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এই আবহে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে এই বড় সিদ্ধান্তের কথা জানান স্কুল শিক্ষা সচিব সঞ্জয় কুমার। বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগে এই সবকটি প্রক্রিয়ার জন্যই পরীক্ষার্থীদের বেশ অনেকটা টাকা খরচ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। নতুন নিয়মে সেই খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনা হয়েছে।

 

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি বিষয়ের উত্তরপত্রের স্ক্যান্ড কপি দেখার জন্য ৭০০ টাকা খরচ করতে হত। যা কমিয়ে করা হয়েছে ১০০ টাকা। প্রতি প্রশ্ন পুনর্মূল্যায়নের জন্য নির্ধারিত ১০০ টাকা কমিয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি, নম্বর যাচাইয়ের জন্য ৫০০ টাকা নির্ধারিত ফি কমিয়ে ১০০ টাকা করা হয়েছে। একইসঙ্গে, স্ক্রুটিনি বা পুনর্মূল্যায়নের পর যদি কোনও পরীক্ষার্থীদের নম্বর বাড়ে, তবে তাঁর জমা দেওয়া ফি সম্পূর্ণ ফেরত দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে বোর্ড।

 

কেন্দ্রের শিক্ষা সচিব সঞ্জয় কুমার জানিয়েছেন, পুনর্মূল্যায়নের পর যেসব ছাত্রছাত্রীর নম্বর বৃদ্ধি পাবে, বোর্ড তাদের পর্যালোচনার জন্য নেওয়া পুরো ফি ফেরত দিয়ে দেবে। বোর্ডের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই রিফান্ড বা টাকা ফেরতের নিয়মটি ২০১৯ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। কিন্তু পরে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে দীর্ঘ সাত বছর পর ২০২৬ সালে এসে আবারও এই নিয়ম ফিরিয়ে আনা হল। বোর্ড কর্তৃপক্ষের আশা, এই সিদ্ধান্তের ফলে পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে অসন্তুষ্ট পড়ুয়ারা অত্যন্ত কম খরচে এবং নির্ভয়ে খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করতে পারবেন।

 

উল্লেখ্য, এ বছর সিবিএসই-র দ্বাদশের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করা হয়েছে ডিজিটাল খাতা মূল্যায়ন বা ‘অন-স্ক্রিন মার্কিং’ (ওএসএম) ব্যবস্থার মাধ্যমে। এ বার ওএসএম ব্যবস্থার পক্ষে সওয়াল করলেও নিজেদের ভুল কার্যত মেনে নিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষাসচিব সঞ্জয় কুমার। আগামী ১৯ মে থেকে ২২ মে-র মধ্যে পরীক্ষার্থীরা তাঁদের মূল্যায়িত উত্তরপত্রের স্ক্যান কপির জন্য আবেদন করতে পারবেন। এরপর তাঁরা খাতা যাচাই বা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন।